কিডনি রোগ নিরাময়ে ভেষজ খাবার

  ডা. আলমগীর মতি

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানবদেহের অতিপ্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে কিডনি অন্যতম। কোমরের কিছুটা ওপরে দুপাশে দুটি কিডনি থাকে। একটি কিডনির ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম। বাম কিডনিটি ডান কিডনি অপেক্ষা একটু বড় ও কিছুটা ওপরে থাকে। এ রোগে সাধারণত একসঙ্গে দুটি কিডনিই আক্রান্ত হয়। এ রোগ কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ ছাড়াই ক্রমে বিস্তৃত হয়। কখনো কখনো রোগী উপসর্গ বুঝে ওঠার আগেই তার কিডনির ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়।

লক্ষণ : কিডনি রোগ যেহেতু বিভিন্ন ধরনের, এর লক্ষণও তাই ভিন্ন ভিন্ন। কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলোÑ হঠাৎ করে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, মূত্রত্যাগের পরিমাণ ও সংখ্যার পরিবর্তন, বিশেষ করে রাতে বেশি পরিমাণ মূত্রত্যাগ, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত এবং প্রোটিন যাওয়া, চোখের চারপাশ ও পায়ের গোড়ালিতে পানি জমা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও অস্বাভাবিক গন্ধ, রক্তশূন্যতা, মাথাব্যথা, শরীর চুলকানো, বমি বমি ভাব, প্রস্রাবের সঙ্গে পাথর বের হওয়া, হাত, পা মুখসহ পুরো শরীর ফুলে যাওয়া, গ্লোমেরুলার ফিল্টারেশন রেট ৯০-এর কম হওয়া।

রোগীর খাবার : কিডনি রোগে দৈনন্দিন খাদ্যের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ খাবার নিয়ন্ত্রণ করে খেলে রোগী দীর্ঘদিন ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে। পথ্যের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য, লবণ এবং পটাশিয়াম। এ ছাড়া জলীয় পদার্থ উল্লেখযোগ্য। এগুলো দেহে কম বা বেশি দুটোই ক্ষতিকর। এ জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস (২ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। তবে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে অধিক পানি পান করা প্রয়োজন।

ফল ও সবজি : দানা বা বীজ জাতীয় খাদ্য খান, যেমনÑ ব্রেড, নুডলস, বাদাম ইত্যাদি। সপ্তাহে অন্তত একটি কচি ডাবের পানি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত চারটি থানকুনি পাতা খাবেন। শশা, তরমুজ, লাউ, বাঙ্গি, কমলালেবু, লেবু, মাল্টা, ডালিম, বিট, গাজর, আখের রস, বার্লি, পেঁয়াজ, শজনে পরিমাণ মতো খেতে হবে।

গোক্ষুর : গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং হাত-পায়ে পানি জমে, তারা নিয়মিত গোক্ষুর চূর্ণ ৩ গ্রাম মাত্রায় সেবন করলে মূত্রের পরিমাণ ঠিক হয়ে যাবে এবং শরীরে জমে থাকা পানি বা ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেবে। এ ছাড়া রক্ত চন্দন, জুনিপার বেরিস, পাথরকুচির পাতার নির্যাস খেলে কিডনি পাথরী ধ্বংস হয়।

বর্জনীয় খাদ্য : চকোলেট, চকোলেট দুধ, পনির, গরুর-খাসি-মুরগির মাংস, সস, পিচস, ব্রকলি, বাদাম, মাশরুম, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, টমেটো, কলা, খেজুর ও আচার।

লেখক : হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক

০১৯১১৩৮৬৬১৭, ০১৬৭০৬৬৬৫৯৫

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে