হিস্টিরিয়া শুরুতেই চিকিৎসা নিন

  ডা. মো. হারুনুর রশীদ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগে হিস্টিরিয়া বলা হতো। এখনো অনেকে এ রোগটি হিস্টিরিয়া হিসেবেই জানেন; যদিও ইদানীং রোগটির বৈজ্ঞানিক নাম কনভারশন ডিসঅর্ডার। বর্তমানে এ নামকরণের কারণ হলো, কনভারশন ডিসঅর্ডার রোগীর স্টেস বা মানসিক দ্বন্দ্ব শারীরিক লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেয়ে থাকে। এটি যে রোগীর ইচ্ছাকৃতভাবে, তা নয়। অনিচ্ছাকৃতভাবেও এটি রোগীর অবচেতন মন থেকে বের হয়। এ রোগ সাধারণত কম বয়সী মেয়েদের বেশি হয়। তবে যে কোনো বয়সে হতে পারে। ছেলেদেরও এ রোগ হয়। তবে তুলনামূলকভাবে তা অনেক কম।

ইতিহাস: হিস্টিরিয়া আগে ব্রেইনের রোগ বলে মনে করা হতো না। হিস্টিরিয়া শব্দের অর্থ জরায়ু। আগে এটি জরায়ুর রোগ বলেই গণ্য হতো। হিস্টিরিয়া নামটি দিয়েছেন প্রথম হিপোক্রেট। পরবর্তীকালে ফ্রয়েড এটি ব্রেইনের রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেন। আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে কীভাবে ওই যুগে তিনি এটি ব্রেইনের রোগ হিসেবে ধরেছিলেন, তা সত্যি বিস্ময়কর ব্যাপার। পরে জেন মার্টিন সারফেও একই কথা বলেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত এটি ব্রেইনের রোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি জরায়ুর রোগ, এটি আসলে ভ্রান্ত ধারণা ছিল।

রোগের কারণ : জেনেটিক; খ) সাইকো ডায়ানমিক; গ) পরিবেশগত মানসিক চাপ বা দ্বন্দ্ব; ঘ) অস্বাভাবিক আচরণ ঙ) কালচারাল প্রভাব।

রোগের লক্ষণ : ব্যথার স্পর্শের অনুভূতি কমে যাওয়া বা না থাকা, অন্ধত্ব, কানে না শোনা, একটি বস্তু দুটি দেখা, ভিজ্যুয়াল হ্যালোসিনেশন হতে পারে, যাতে চোখে এমন কিছু দেখতে পায়, যা কেবল সে দেখে থাকে। প্যারালাইসিস হাত-পা, শরীরের অন্যান্য অংশ, যাতে নিউরোলজিক্যাল কোনো অস্বাভাবিকতা থাকে না। গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট, বারবার জ্ঞান হারানো ইত্যাদি।

চিকিৎসা : এ রোগের প্রধান চিকিৎসা সাইকোলজিক্যাল। রোগী ও তার স্বজনকে সাহস দিতে হবে। আশ্বস্ত করতে হবে প্রথমে। তারপর রোগীর সবদিকে নজর দিতে নিষেধ করতে হবে পরিবারকে। যেমনÑ শ্বাসকষ্টের রোগীকে অক্সিজেন, প্যারালাইজড রোগীকে হুইল চেয়ার দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই। তা হলে রোগ স্থায়ী রূপ নিবে। রোগের কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান বের করতে হবে। রোগীকে স্বাভাবিক কাজকর্মে লাগাতে হবে।

পরিণতি: সাধারণভাবে যদি অল্প সময়ের জন্য হয়, সঠিক আচরণগত চিকিৎসা দিতে হবে। আর বেশি অ্যাটেনশন দিলে সঠিক কারণ বের করে দূর করা সম্ভব না হলে তা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এ জন্য সবার ব্যাপক সচেতনতা দরকার।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক

ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক (বিএসএমএমইউ)

০১৭৫৯৯১১৬১১

 

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে