শিশুকে জোর করে কিছু করানো ঠিক নয়

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। ফলে শিশুরা অল্পতেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় বাবা-মায়ের অসচেতনতাও শিশুর রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী। ছোট্ট শিশুর সুস্বাস্থ্য গঠনে পরিবার তথা বাবা-মাকে তাই নিতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। হতে হবে সচেতন। শিশুকে সুস্থ রাখতে, তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে বাবা-মায়ের করণীয় সম্পর্কে জানাচ্ছেন প্রখ্যাত শিশুবিশেষজ্ঞ, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজের সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার দুলাল হোসেন

দুলাল হোসেন : স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে চশমা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। কারণ কী?

অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান : এক সময় ভিটামিন-এ’র অভাবে শিশুরা রাতকানা রোগে আক্রান্ত হতো। ইদানীং সচেতনতা বেড়েছে। ফলে এখন রাতকানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমে গেছে। ভিটামিন-এ’র অভাব দূর করতে সরকার বছরে দুবার ভিটামিন-এ ক্যাপসূল খাওয়ায়। এ কারণে রাতকানা রোগে আক্রান্তের হার অনেকাংশই হ্রাস পেয়েছে। তবে বেশি সময় ধরে শিশুর টেলিভিশন দেখা, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্য তৈরি হচ্ছে। এতে স্কুলগামী ছোট্ট শিশুদের মধ্যে চশমার ব্যবহার বেড়েই চলেছে। শিশুরা যাতে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ব্যবহার কম করে খেলাধুলার প্রতি বেশি মনোযোগী হয়, বাবা-মাকে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

দুলাল : অনেক শিশুই খেতে চায় না। খাবার গ্রহণে অনীহার কারণ কী?

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান : শিশুর সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান অনেক বাবা-মা। তাদের ৮০ শতাংশেরই অভিযোগ, শিশু খেতে চায় না। বিষয়টা একেবারেই ঠিক নয়। কোনো শিশু যদি রোগাক্রান্ত হয়, তা হলে খেতে চাইবে না। বাকি যেসব শিশু সুস্থ আছে, তারা যে পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা দরকার, সেই পরিমাণ খাবার তারা ঠিকই গ্রহণ করে। কিন্তু শিশু যে পরিমাণ খাবার গ্রহণ করে, তাতে মা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। তারা মনে করেন, তার শিশু খাচ্ছে না। এটা মায়ের ভুল ধারণা। কারণ মা জানেন না, তার শিশুর খাবারের চাহিদার পরিমাণ কতটুকু। এ কারণে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, শিশুকে যেন কখনই জোর করে খাবার গ্রহণে বাধ্য করা না হয়।

দুলাল : বাবা-মায়ের গুঁড়ো দুধের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণ কী?

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান : গুঁড়ো দুধের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে অসচেতনতা। আগে মায়ের দুধের সঙ্গে অন্য দুধের পাথর্ক্য কী, তা ভালো করে মায়েদের জানতে হবে। কিন্তু সেটা অনেক মা-ই বোঝেন না। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক নিয়মে হবে। কিন্তু লোভনীয় বিজ্ঞাপনের কারণে গুঁড়ো দুধের প্রতি মায়েদের এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়। মায়েরা না জেনেই বুকের দুধের পরিবর্তে গুঁড়ো দুধ খাওয়াতে শুরু করেন। এতে শিশুর ডায়রিয়া, পেটের পীড়া ও ইনফেকশন হওয়ার ঝুুঁকি বাড়ে। তাই শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে প্যাকেট দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে।

দুলাল : গরুর দুধ শিশুর কত বছর বয়স থেকে খাওয়ানো শুরু করা যেতে পারে?

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান : মায়ের দুধ আর গরুর দুধের মধ্যে কিছু তফাৎ রয়েছে। মায়ের দুধে যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে, গরুর দুধে তার থেকে বেশি পরিমাণ প্রোটিন থাকে। মায়ের দুধে যে পরিমাণ চর্বি থাকে, গরুর দুধে তার থেকে বেশি চর্বি থাকে। এ কারণে শিশুর বয়স এক বছর অতিক্রম না করলে গরুর দেওয়া উচিত নয়। এক বছরের আগে শিশুকে গরুর দুধ দেওয়া হলে শিশুর হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দুলাল : শিশুরা সর্দি, জ্বর ও পেটব্যথায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। এর কারণ কী?

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান : ছোটবেলা থেকেই শিশুরা সর্দি, জ্বর ও পেটব্যথা সমস্যায় ভুগে থাকে। এটির অনেকগুলো কারণ থাকে। শিশুর মায়েরা ঠা-া পানি ব্যবহার করে কাজকর্ম করায় প্রায়ই তারা সর্দিতে আক্রান্ত হন। মা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলে শিশু তার মায়ের কাছাকাছি থাকায় মা হাঁচি-কাশি দিলে যে জীবাণু ছড়ায়, তা শিশুকে আক্রান্ত করে। আবার খাবার গ্রহণজনিত সমস্যার কারণে শিশুর পেটের ব্যথা হয়ে থাকে।

দুলাল : শিশুদের পরিচর্যা কেমন হওয়া উচিত?

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান : সব বাবা-মা চান, তার শিশু সুস্থ ও ভালো থাকুক। কিন্তু সচেতনতা অভাবে কিছু না কিছু ভুল হয়েই থাকে। অনেকে জন্মের পর শিশুর মুখে মধু, চিনির পানি দিয়ে থাকেন। এগুলো ঠিক নয়। জন্মের পর শিশুকে মায়ের বুকের শালদুধ খাওয়ানো উত্তম। শিশুর বয়স ৬ মাস হলে বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার হিসেবে ভাত, খিঁচুরি, সবজি, মাছ-মাংস রান্না করে নরম করে দিতে হবে। কোনো ধরনের প্যাকেট খাবার, বার্লি, সুজি ও চালের গুঁড়া জাতীয় খাবার দেওয়া ঠিক নয়। শিশুকে জোর করে, টিভি দেখিয়ে, মোবাইলে গেমস খেলতে দিয়ে খাওয়ানো ঠিক নয়। শিশুদের ছোটবেলা থেকে নাচগান, আঁকাআঁকিতে পারদর্শী করে তোলার চেষ্টা করাও ঠিক কাজ নয়। শিশুকে ছোটবেলা থেকে সময় দিতে হবে। শিশু কোনো প্রশ্ন করলে তাকে ধমক দিয়ে না থামিয়ে উত্তর দিতে হবে। শিশু যেন বুঝতে পারে, তার কথাগুলো বাবা-মা গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন।

দুলাল : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের সময়ের পাঠকদেরও

অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে