হিটস্ট্রোকে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে

  অনলাইন ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে মানুষের রোগব্যাধি বেশি হয়ে থাকে। প্রচ- গরম ও আবহাওয়াগত কারণেই বেশি অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়। গরমের দাবদাহে মানুষ, পশুপাখি, জীবজন্তুÑ সবাই হাঁপিয়ে ওঠে। বাতাসে রোগব্যাধির জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ সময় সবার সতর্ক থাকা একান্ত প্রয়োজন। গরমকালে যে ধরনের রোগব্যাধি হয়ে থাকে এবং তা কীভাবে প্রতিরোধ করে সুস্থ থাকা যায়, তা নিয়ে কথা বলেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সিনিয়র রিপোর্টার দুলাল হোসেন

দুলাল হোসেন : গ্রীষ্মকালে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ সময়ে মানুষের রোগব্যাধি হওয়ার কারণ কী?

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : গ্রীষ্মকালে প্রচ- গরমে চারদিক অস্থির থাকে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয় তা হলো, শরীরের পানিস্বল্পতা। গরমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়। ঘামের কারণে শরীর থেকে পানির সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে যায় লবণও। ফলে শরীরের রক্তচাপ কমে যায়, শরীর দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে। পানিস্বল্পতা গরমকালে খুব সামান্য সমস্যা হলেও অবহেলা করলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে। গ্রীষ্মকালে মানুষ সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর, ঘামাচি, অ্যালার্জি ও হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে গরমকালে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যাটি হচ্ছে হিট স্ট্রোক। হিট স্ট্রোকে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

দুলাল হোসেন : হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচ- গরমের কারণে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হিট স্ট্রোক হয়ে থাকে। যারা দিনের বেলায় প্রচ- রোদের ভেতর কাজ করেন, সাধারণত তাদের হিট স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ছাড়া শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় তাদেরও হিট স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। হিট স্ট্রোকের আগে কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হবে। যেমনÑ শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়, ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যায়, নিঃশ্বাস দ্রুততর হয়, নারীর স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি ও মাথা ঝিমঝিম করে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, রোগী অসংলগ্ন আচরণ করেন এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। এসব লক্ষণ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত শীতল স্থানে নিতে হবে, ঘরের মধ্যে থাকলে ফ্যান ছেড়ে দিতে হবে, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে, প্রচুর পরিমাণে খাবার স্যালাইন ও পানি পান করতে দিতে হবে, চা ও কফি পান থেকে তাকে বিরত রাখতে হবে। যদি কেউ হিট স্ট্রোক করেই ফেলেন, তা হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কোনো অবস্থায় তাকে ঘরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে, হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত লোকের শ্বাস প্রশ্বাস ও নাড়ি ঠিকমতো চলছে কিনা। প্রয়োজন হলে রোগীকে কৃত্রিমভাবে নিঃশ্বাস প্রদান করতে হবে। হিট স্ট্রোকে জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই গরমে যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে সবাইকে।

দুলাল হোসেন : গরমকালের রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : প্রচ- গরমে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করলে হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। প্রচ- গরমে হালকা ও টিলেঢালা কাপড় পরিধান করতে হবে। যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে ও ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে হবে। ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই ছাতা বা টুপি নিয়ে বের হতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় চা, কফি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আবার খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করলে অন্যান্য রোগগুলো প্রতিরোধ করা যায়। যেমনÑ অনেকে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তাঘাটের আশপাশে অবস্থিত ভ্রাম্যমান দোকান থেকে অপরিষ্কার পানিতে তৈরি শরবত, জুস, আচারসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন। এসব খাদ্য গ্রহণের কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। গরমের সময় রাস্তাঘাটের আশপাশের খোলামেলা খাবার-দাবার খাওয়া বর্জন করতে হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এসব খাবার খেয়ে মানুষ পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়। অর্থাৎ এ সময়ে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সর্তক থাকতে হবে। তবেই গ্রীষ্মকালীন রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।

দুলাল হোসেন : আপনাকে ধন্যবাদ।

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ : আমাদের সময়ের মাধ্যমে দেশের সব পাঠককে ধন্যবাদ। পরামর্শগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন। গ্রীষ্মকালীন রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে