সম-র পঞ্চান্ন

  লুৎফর রহমান রিটন

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওকে আমি ডাকি সম বলে। এটা ওর নামের প্রথম অংশ। ওর পুরো নাম স.ম. শামসুল আলম। সম আমার বিশেষ প্রীতিভাজন। সমকে আমি চিনি বহু আগে থেকে। ঠিক কবে থেকে চিনি সেই দিন-তারিখ মনে নেই কিন্তু এটা মনে আছে, সমকে চিনেছিলাম দাদাভাইয়ের মাধ্যমে। হ্যাঁ, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই। কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা এবং ইত্তেফাকের ছোটদের পাতা কচি-কাঁচার আসরের পরিচালক দাদাভাই। সম আসত দাদাভাইয়ের কাছে। ইত্তেফাক অফিসে এবং মেলা কার্যালয়ে। দু’জায়গাতেই লক্ষ করেছি দাদাভাইয়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা পোষণ করে সে। এবং দাদাভাইয়েরও প্রবল স্নেহ সম-র প্রতি। সম ছড়া-কবিতা লিখত কচি-কাঁচার আসরে। আমাকে কখনো মুখ ফুটে বলেনি কিন্তু ওর কথা আর আচরণে বুঝতাম আমাকেও ভীষণ পছন্দ করে সে। শুধু কি পছন্দ? ভালোও বাসে। শ্রদ্ধা মেশানো ভালোবাসা। এবং আমার প্রতি ওর ভালোবাসাটা একেবারেই শর্তহীন। বিনিময়ে আমার কাছ থেকে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই পায়নি সে। কিন্তু আমি পেয়েছি ওর কাছ থেকে ভালোবাসার সঙ্গে আরও অনেক কিছু। এই যেমন এ বছর বইমেলায় প্রকাশিত ওর প্রথম ছড়াসমগ্র বইটি সে উৎসর্গ করেছে আমার মতো অভাজনকে। একজন ছড়াকারের প্রথম ছড়াসমগ্র বইটির উৎসর্গ পাতায় নিজের নামটি মুদ্রিত দেখে খুশিও হয়েছি, সম্মানিতও হয়েছি।

পুরো একটা জীবন আমি ছড়ার সঙ্গে কাটিয়েছি। কোনো ছড়াকারের ভালোবাসা অর্জন করাটা আমার জন্য এক পরম প্রাপ্তি। সম আমাকে সেই সম্মানে সম্মানিত করেছে। সম তোমাকে ভালোবাসি।

স.ম. শামসুল আলম একজন নিষ্ঠাবান সাহিত্যপ্রেমী। আনন ফাউন্ডেশন তার স্বপ্নের সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে ছোটদের স্বপ্নময় এক বর্ণিল ভুবন নির্মাণ করতে চায় সম। কে না জানে, ছোটদের মনোজগৎকে রঙিন করে তোলেন শিশুসাহিত্যিকরা। ওরা আলোর পথযাত্রী। আর সেই শিশুসাহিত্যিকদের সম্মানিত করতে এগিয়ে এসেছে স.ম. শামসুল আলম তার নিজের সামর্থ্যে গড়া সংগঠন আনন ফাউন্ডেশনের ব্যানারে। আনন ওর পুত্রের নাম।

নিজের উপার্জিত অর্থ অন্যকে দিয়ে দেওয়ার নজির খুব কম। সম তার উপার্জিত অর্থের একটা অংশ তার সহযোদ্ধা শিশুসাহিত্যিকদের হাতে তুলে দিতে চায়। এবং সেটা তুলে দেয় সে খুবই শৈল্পিক আবহে। আনন ফাউন্ডেশনের ব্যানারে প্রতিবছর সে আয়োজন করে বর্ণাঢ্য একটি অনুষ্ঠানের।

বাংলাদেশের বেশ কজন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিককে ইতোমধ্যে আনন শিশুসাহিত্য পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন ফারুক নওয়াজ, মাহমুদউল্লাহ, আখতার হুসেন, সেলিনা হোসেন, আলী ইমাম এবং সুজন বড়ুয়া। আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন সুকুমার বড়ুয়া ও মোহাম্মদ মোস্তফা। আমাদের শিশুসাহিত্যের অঙ্গনটিকে তারা বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ করে তুলেছেন তাদের অপরূপ সৃজন দক্ষতায়। শিশুসাহিত্যের প্রতি তাদের মমতা ও নিষ্ঠা আমাদের মুগ্ধ করে। আমাদের ছোটদের জগৎটিতে আলোর কুসুম ফোটানোর ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টায় বিভোর-নিমগ্ন তারা।

গত বছর (মার্চ ২০১৬) এই তালিকায় আমার নামটিও যুক্ত করেছেন আননের বন্ধুরা। এই সম্মান আমার জীবনের অন্যতম সেরা এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর, তাদের অভিভাবক এবং শিশুসাহিত্যিকদের আনন্দময় উপস্থিতিতে আমার হাতে অন্যান্য উপহার সামগ্রীর সঙ্গে নতুন চকচকে এক হাজার টাকার নোটের একটি বান্ডিল তুলে দিয়েছিলেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন।

আনন ফাউন্ডেশনের পুরস্কারের এই অর্থমূল্যটি আসে শিশুসাহিত্যিক-প্রকৌশলী স.ম. শামসুল আলমের নির্মাণসংস্থার লভ্যাংশ থেকে। এই টাকাগুলোর হক ওর পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু শিশুসাহিত্যিকদের নিজ পরিবারের সদস্যদের মতো আপনজন মনে করে বলেই হাসিমুখে সেই টাকা তাদের হাতে তুলে দিয়ে আনন্দিত হয় সম। সম-র এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

স.ম. শামসুল আলমের লেখা ৫৫টি বই ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। ওর প্রকাশিত বইয়ের তালিকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিষয় করে রচিত গদ্য-পদ্যের একটি সংকলনও রয়েছে। সংকলনটির নাম ‘আমার বঙ্গবন্ধু’। কে যেন লিখেছিলেন (ফিউরি খোন্দকার?) ‘তুমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসো, আমি তোমাকে ভালোবাসবো।’ সম বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে। আমিও তাই ভালোবাসি সমকে।

জীবনে চুয়ান্নটি বসন্ত পেরোনো আমাদের সম পঞ্চান্নে পদার্পণ করছে! আগামী ২৫ আগস্ট ওর ৫৫তম জন্মদিন। বাংলাদেশ থেকে বারো হাজার তিনশ কিলোমিটার দূরের দেশ কানাডায় বসে অনুজপ্রতিম সম-র জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে