যখন ছেলেবেলা

  হাসনাত আবদুল হাই

২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শৈশব : নড়াইল, ১৯৪৪

সকালে রানাঘাট থেকে ট্রেন ছাড়ল কলকাতার দিকে। ট্রেনের চাকা আর লোহার লাইনে লেগে শব্দ হতে থাকল চেঁচিয়ে কথা বলার মতো। মেজো ভাই হান্নান আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ট্রেন বলছে, রানাঘাট-কলকাতা। রানাঘাট-কলকাতা। আবার কলকাতা-রানাঘাটও শুনতে পার। আমি মনোযোগ দিয়ে শুনলাম, হ্যাঁ, তাই। ট্রেন ওভাবেই কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। আমি বেশ মজা পেলাম। কলকাতায় পৌঁছে আমরা শহরে গেলাম না। বাক্স-পেটরা, বিছানার তোষক-বালিশ এইসব নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেনে উঠলাম দুপুরের আগে। ট্রেন চলতে শুরু করল। আবার চাকা আর রেললাইন থেকে সেই রকম শব্দ হতে থাকল। তবে কথাগুলো এবার স্পষ্ট না। মেজো ভাইও কিছু বললেন না। আমি চুপ করে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। অনেকগুলো স্টেশনে থেমে থেমে চলার পর ট্রেন যশোরে এসে পৌঁছাল বিকালের আগে। রাস্তায় ট্রেনেই আমরা সঙ্গে আনা খাবার খেয়ে নিয়েছি। যেসব স্টেশন পার হয়ে এলাম তার মধ্যে একটা নাম মনে থাকল। বনগাঁ। নামটা বেশ, শান্তির আমেজ মেশানো।

যশোর স্টেশন থেকে একটা পুরনো রং ওঠা জায়গায় জায়গায় তোবড়ানো বাসে উঠলাম আমরা। তল্পি-তলপা জায়গা পেল বাসের ছাদে। বাসের সামনে লেখা ‘নড়াইল’। আমরা নড়াইল যাচ্ছি, আব্বার নতুন কাজের জায়গা। তিনি পদোন্নতি পেয়ে ইনস্পেক্টর হয়েছেন। পরিচয় পেয়ে বাসের ড্রাইভার সম্ভ্রমের সঙ্গে আমাদের সবাইকে সামনে বসতে দিল। আব্বাকে বসালো তার পাশে। বাসের বেশিরভাগ যাত্রীই ধুতি পরা, মেয়েদের কপালের ওপর চুলের মাঝখানে সিঁথিতে লাল দাগ। এর আগে কাছে থেকে আমি হিন্দু মেয়েদের দেখিনি। বড় ভাই মোমেন বললেন, ওটা সিঁদুর। বিয়ে হলে হিন্দু মেয়েরা সিঁথিতে লাগায়। দেখলাম যাত্রীদের অনেকে আমাদের কৌতূহল নিয়ে দেখছে। বড় বোন ছাড়া আমাদের পরিবারের সবাই আছি, বেশ বড় একটা দল। একটু পর বাস যশোর শহর ছাড়িয়ে খোয়া লাগানো অসমান, এবড়ো-খোবড়ো রাস্তা দিয়ে চলতে শুরু করল। রাস্তার দুদিকে গভীর খাদ। মেজ ভাই বললেন, ওখানে বর্ষার পানি জমে। খাদের ওপারে বড় বড় গাছপালা প্রায় দেয়াল তৈরি করেছে। মাঝে মাঝে চিকন পাতা নিয়ে লম্বা আর সরু গাছ জড়াজড়ি করে থেকে খাদের দিকে ঝুকে আছে। এই গাছ আগে দেখিনি। বড় ভাই বললেন, বাঁশগাছ। বাড়ি তৈরি করা হয় গ্রামে বাঁশ কেটে। দুদিকের গাছ-পালার ভেতর দিয়ে মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গায় গ্রামের বাড়িঘর দেখা গেল। ছনের চালা, বাঁশের খুঁটি, তর্জার বেড়া। উঠোনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। গরু জাবর কাটছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। নেংটা ছেলেরা দৌড়াদৌড়ি করে খেলছে। মাথায় ঘোমটা দেওয়া মেয়েছেলে কুলো দিয়ে কিছু বাঁচছে। এই দৃশ্য বেশিক্ষণ চোখে পড়ে না, চলন্ত বাস একটু দেখিয়েই মানে এগিয়ে যায় হোঁচট খেতে খেতে।

সন্ধ্যার আগেই আমরা নড়াইল পৌঁছুলাম। মহকুমা শহর কিন্তু রাস্তার অবস্থা রানাঘাটের চেয়েও খারাপ মনে হলো। শহর শুরু হওয়ার পর রাস্তার পাশে বড় খাদ নেই, অল্প একটু নিচু জায়গা। সেখানে পাতলা ডাটের ওপর লম্বা এক পাশে ভাগ করা গাঢ় সবুজ পাতা বাতাসে নড়ছে। দেখতে বেশ ভেজা ভেজা। বড় ভাই বললেন, কচুগাছ। আরও একটা গাছের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো যদিও বড় কিছু বড় নয়। রাস্তার পাশে দুদিকে লম্বা ঘন পাতা জড়ানো গাছ সটান দাঁড়িয়ে। প্রায় একই উচ্চতার আর একই আকারের। গাছের ভেতরে কিছু দেখা যায় না, এত ঘন তার পাতা। মেজ ভাই আমাকে তাকাতে দেখে বললেন, দেবদারু গাছ। এ গাছগুলোকেও আমার সুন্দর মনে হলো। বেশ সাজানো-গোছানো। এবড়ো-খেবড়ো খোয়া মোড়ানো রাস্তাটার শোভা বর্র্ধন করেছে।

শহরের শুরুতেই দেয়ালঘেরা একটা জায়গা। ভেতরে মাঝে মাঝে একটু উঁচু মাটির লম্বা আকারের ঢিপি। প্রায়গুলোই ঘাসে ঢাকা। কিছু ঢিপির পাশে পুরনো বাঁশের বেড়া হেলে আছে। নতুন বেড়াও দেখা গেল কয়েকটা। বড় ভাই বললেন, কবরস্থান। মুসলমানরা মারা গেলে এখানে মাটির নিচে শুইয়ে রাখে। কবর দেয়। শুনে আমি ভয়মিশ্রিত চোখে তাকাই। কবরস্থানটা খুব নির্জন, কাউকে দেখা যাচ্ছে না। যারা মরে গিয়েছে মাটির নিচে শুয়ে আছে। কেউ দেখতে আসছে না। আমার মন একটু খারাপ হয়ে গেল। নতুন শহরে ঢোকার মুখেই কবরস্থান দেখব ভাবতে পারিনি।

একটু পর বাস থামল। আমরাই নামলাম এখানে, অন্য যাত্রীরা ভেতরে থেকে গেল। আমাদের মালপত্র সব নামানোর পর বাস চলে গেল গোঁঙাতে গোঁঙাতে। রাস্তার বাঁ দিকে পুরনো একটা দোতলা দালান। দেয়ালে রং নেই, পলেস্তারা খসে পড়েছে জায়গায় জায়গায়। সব মিলিয়ে কালচে দেখাচ্ছে বাড়িটা। নিচের তলায় টানা বারান্দা, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। তারপর দুটো দরজা। ওপরে দোতলাতেও একই ধরনের টানা বারান্দা, দরজাও দুটো, ভেতরের দিকে। বাড়ির ওপরে কিছুু লেখা। বড় ভাই পড়ে বললেন, অভয় কুটির বাড়িটার নাম। রানাঘাটে আমাদের বাড়ির কোনো নাম ছিল না। বাড়ির যে নাম হয় তা জানতাম না। বড় ভাই বললেন, অভয় মানে কোনো ভয় নেই। কারো নামেও হতে পারে।

বারান্দায় উঠে ডানদিকের দরজা দিয়ে ঢুকলে একটা বড় ঘর আসে। তারপর ভেতরের দরজা পেরুলে আবার বারান্দা। তবে এটা বাঁ দিকে বেঁকে গিয়েছে। সেখানে দালানটা একতলা। মা ভেতরে উঁকি দিয়ে বললেন, রান্নাঘর। পাশেই দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। দোতলাতেও বরান্দার দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে একটা বড় ঘর আর তার পাশে একটা ছোট ঘর। বাইরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালে সামনে খোয়ামোড়ানো অসমান রাস্তা, রাস্তার পাশের দেবদারু গাছ আর আমাদের বাড়ির ঠিক সামনে একই আকারের কয়েকটা একতলা দালান। জানালায় পর্দা ঝুলছে। মনে হলো কোনো কোনো জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখছে আমাদের। ততক্ষণে আব্বার অফিসের লোকজন এসে গিয়েছে। কাজের লোকও দেখা গেল কয়েকজন। তারা ব্যস্ত হয়ে মালপত্র ঘরে ঘরে ওঠালো মায়ের নির্দেশ মতো।

অভয়কুটিরের ভেতরে মাঝখানে একটা মাঝারি আকারের উঠান। চারপাশে দেয়াল। উত্তর দিকে একটা দরজা। বন্ধ। আব্বা গিয়ে খুলে দেখলেন। পেছনে পেছনে আমরা তিন ভাইও গেলাম। ওপাশে একটা পুকুর, কালো রঙের পানি, শ্যাওলা আর নানা রকমের জলজ গাছে ভর্তি। পুকুরের পাড়ে কয়েকটা বড় বড় গাছ। একটাকেও চিনলাম না, আগে দেখিনি। পুকুরের অন্য পাশে একটা বড় গাছে লাল লাল ফুল ফুটে আছে। পাতা খুব একটা নেই। বড় ভাই বললেন, ওটা শিমূল গাছ। শিমূল ফলের ভেতরের তুলো দিয়ে বালিশ হয়। শুনে আমার জ্ঞান আরও একটু বাড়ল। আমাদের সামনে পুকুর পাড়ে একটা ভাঙা সিঁড়ি পানির ভেতরে নেমে গিয়েছে। আব্বা বললেন, স্নান করার, কাপড় কাচার জায়গা। খাওয়ার জন্য ভেতরে একটা টিউবওয়েল আছে। তোমরা তার পানিতেই গোছল করবে। পুকুরের পানি বেশ ময়লা। আমি তাকিয়ে দেখলাম পুকুরটার চারদিকে গাছপালা আর ঝোপ-ঝাড়ের জঙ্গল। মনে হলো কেউ যায় না পুকুর পাড়ে। সন্ধ্যার পর পুকুর পাড়ের জঙ্গল থেকে অদ্ভুত এক ডাক শোনা গেল। অনেকগুলো স্বর একসঙ্গে। হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া। কিছুক্ষণ ওই ডাক চলল। শুনে আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠল। আগে কোনোদিন শুনিনি। বড় ভাই বললেন, শেয়াল। মানুষ খায় না, তবে হাঁস-মুরগি, ছাগল পেলে নিয়ে যায়। শেয়ালের ডাকের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাড়ির দুপাশের গাছপালা ঘেরা টিনের চালার বাড়ির ভেতর থেকে একটানা শব্দ শোনা গেল। এটা অন্য ধরনের। অনেকটা বাঁশির মতো। মেজ ভাই বললেন, হিন্দু বাড়ি। মেয়েরা শাঁখ বাজাচ্ছে। হিন্দু বাড়িতে সন্ধ্যার সময় শাঁখ বাজায়, উলু দেয়। উলু? কিছু পর উলু লু লু শব্দে মেয়েলি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটা বেশ রহস্যময় মনে হলো। রানাঘাটে এসব কিছু দেখিনি, শুনিওনি। আমার অভিজ্ঞতা বাড়ল, সেই সঙ্গে জ্ঞানও। এক সন্ধ্যাতেই কত কিছু জেনে গেলাম। মনে হলো রানাঘাটের তুলনায় নড়াইলে এসে আমার বয়স একটু বেড়ে গেল।

আমাদের বাড়ির বাঁ দিকে ভেঙেপড়া বাঁশের বেড়া দিয়ে ঢাকা একটা বাগান। ভেতরে ছন্নছাড়া ভাব, অনেক আগাছা জন্মেছে। মাটিতে সাদা লম্বা আকারের কয়েকটা বড় ফল। একটা ভাঙা মাচা থেকে ঝুলছে লম্বা সবুজ রংয়ের বড় ফল। ওপরের বারান্দা থেকে দেখে মা বললেন, মাটিতে চালকুমড়ো দেখা যাচ্ছে। মাচা থেকে ঝুলছে লাউ। বাগানটা বড় অযতেœ রাখা। একটু পর খালি গায়ে গলা থেকে সাদা সুতো বাঁধা ধুতি পরা একজনকে দেখা গেল। সে বাড়ির সামনে আমাদের গরু দেখে ওপরের বারান্দার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলল, গরু যেন বাগানের কিছুতে মুখ না দেয়। মা বারান্দা থেকে সরে ঘরের ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, পৈতে বাঁধা বামুন। বেশ বধমেজাজী মনে হচ্ছে।

ডানদিকের বাড়িটা বেশ বড়, টিনের ছাদ, চারদিকে নতুন বেড়া। উঠান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। বাড়ির চারপাশে অনেক বড় বড় গাছ। আম, কাঁঠাল আর অন্যান্য ফলের। সকাল বেলায় দেখি ঘরের বারান্দায় বসে ধুতি পরা দুজন কথা বলছে। হাতে কাগজ। একজন বয়স্কা মহিলা পেতলের থালায় লাল ফুল নিয়ে ভেতরের দিকে গেল। দেখে বড় ভাই বলল, জবা ফুল। পুজোর জন্য ব্যবহার করে। হিন্দুদের সব বাড়িতেই ছোট-খাটো পুজোর ঘর আছে। আমার মনে হয় রানাঘাটের তুলনায় নড়াইলে অনেক কিছু জানা যাবে। আর কয়েক মাস পর আমার স্কুলে যাওয়ার বয়স হবে। তখন বাইরে ঘুরতে পারব ইচ্ছে মতো।

বাঁদিকে ভাঙাচোরা বাগানের বেড়ার ওপাশে পাকা দেয়াল। নড়াইল হাইস্কুলের সীমানা। বেশ বড় দোতলা লাল দালান স্কুলের। সামনে ছোটখাটো মাঠ। পেছনে ডানদিকে খুব বড় একটা মাঠ। সেটাও স্কুলের, সেখানে ছেলেরা বিকালে ফুটবল খেলে। কদিন পর বড় ভাই আর মেজ ভাই স্কুলে ভর্তি হলেন। আমি অপেক্ষায় থাকলাম, কখন আমার সময় হয়। ভর্তি হওয়ার আগেই বিকালে স্কুলের মাঠে গিয়ে ছেলেদের খেলা দেখলাম। তাদের হৈ চৈ শুনলাম। মাঠের একেবারে শেষে বড় কয়েকটা গাছের নিচে ছোট একটা ঘর, অর্ধেক পাকা দেয়াল, ধরের ওপরের দিকে কাচ। লাল টালির ছাদ। বড় ভাই বললেন, লাশ কাটা ঘর। ওখানে দুর্ঘটনায় বা খুনখারাপিতে কেউ মরে গেলে নিয়ে গিয়ে কাটাকুটি করে ডাক্তার। তারপর ডোম কাটা লাশ নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে যায়, তা বলতে পারব না। বলে তিনি আবার ফুটবল খেলা দেখতে থাকেন। আমি কিছুক্ষণ বেশ ভয়ে ভয়ে দূরের ঘরটার দিকে তাকাই। লাশকাটা ঘর! ভয় লাগানো নাম। স্কুলের পাশেই লাল রং একতলা দালান। নড়াইল হাসপাতাল, লাশকাটা ঘর হাসপাতালের। একদিন সকালে দেখতে পেলাম হাসপাতালের সামনে কচুগাছ ভর্তি নিচু জায়গায় কালো, মোটা, লম্বাটে একপাল জন্তু বড় দাঁত দিয়ে মাটি খোঁচাচ্ছে আর ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ করছে। দেখতে বিশ্রী, তেড়ে এলে বিপদ হতে পারে। শুনলাম ওগুলোর নাম শুয়োর। নমসূত্র বলে নড়াইলে এক ধরনের লোক আছে। তারা শুয়োর পোষে, তার মাংস খায়। শুনে আমার বেশ ঘেন্না করে।

আমার হাতখড়ি শুরু হলো নড়াইলে আসার কয়েক মাস পর। কিন্তু আমাকে বাড়ির পাশের সুন্দর স্কুলটায় ভর্তি করা হলো না। সামনের রাস্তা পূবদিকে গিয়ে যেখানে কোর্ট-কাচারিতে শেষ হয়েছে, সেখানে একতলা এক দালানের বারান্দায় মক্তবে ভর্তি করা হলো আমাকে। বারান্দাতেই ক্লাস, কয়েকটা বেঞ্চ পাতা। পনের/বিশজন ছেলেমেয়ে একসঙ্গে পড়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। একজনই মাস্টার। তিনি লুঙ্গি আর আধময়লা পাঞ্জাবি পরে ক্লাসে আসেন। তার পাঞ্জাবির বুকের বোতাম নেই, লোম দেখা যায়। তাকে ’হুজুর’ বলে ডাকতে হয়। তিনি কুঁতকুঁতে চোখে সবাইকে দেখে নিয়ে চেয়ারে বসে হাতের ছোট লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে বলেন, পড়। আলেফ জবর আ। বে জবর বা।

মক্তবের পাশে নিচু জায়গা, তার দক্ষিণে কোট-কাচারির লাল দালান। পাশে বড় বটগাছ দাঁড়িয়ে। গাছটাকে দেখেই চিনলাম। রানাঘাটে রোজ দেখতাম জানালা দিয়ে। কিন্তু সবুজ রং টিয়া পাখি দেখলাম না। অনেক লোক ঘোরাঘুরি করে কোর্টর আশপাশে আর ভেতরের বারান্দায়। কেউ কেউ বটতলায় বসে কিছু লেখায়। লেখার জন্য লোক বসে থাকে সেখানে সকাল থেকে। বেশ কোলাহল হয় অত লোকের কথা বলায়। মক্তবের বারান্দা থেকেও শোনা যায়। কোর্ট-কাচারির দালানের ভেতরে বাইরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লোকের ভিড় থাকে। কেউ এক জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়ায় না, চলাচলের মধ্যেই থাকে। খুব ব্যস্ত মনে হয় সবাইকে। আমি মক্তবের বারান্দা থেকে মাঝে মাঝে চোখ তুলে ওইদিকে তাকাই। একটা আলাদা জগত। রানাঘাটে এ দৃশ্য দেখিনি। একটা নতুন অভিজ্ঞতা হয় আমার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে