সাহিত্যে নোবেল জিতলেন ব্রিটিশ লেখক কাজুও ইশিগুরো

প্রকাশ | ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০

সোহরাব সুমন

এ বছর সাহিত্যে নোবেল জিতলেন ৬২ বছর বয়স্ক ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক কাজুয়ো ইশিগুরো। দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে ও নেভার লেট মি গো তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস। প্রথমটির জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার জেতেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ওর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এমপ্রাইয়ে ভূষিত হন। কাজুও প্রচ- আবেগি শক্তি দিয়ে তার উপন্যাসের মাধ্যমে পাঠকের কল্প জগতের সঙ্গে বাস্তব বিশে^র সংযোগ সাধন করেছেন। তিনি এ পুরস্কারকে ‘বিস্ময়ে অভিভূত আনন্দবোধ’ বলে উল্লেখ করেন। এ পর্যন্ত তিনি মোট আটটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা চল্লিশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। নোবেলপ্রাপ্তি সম্পর্কে বিবিসির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান নোবেল কমিটির সঙ্গে তার কথা হয়নি এবং খবরটি আদৌ কোনো তামাশা কিনা এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, ‘এটি খুব চমকপ্রদ একটি সম্মান, এর কারণ মূলত এর দ্বারা বোঝায় আমি জীবিত ছিলেন এমন মহান লেখকদের পথে রয়েছি, তাই এটি ভীষণ একটি অনুমোদন।’ নোবেল পুরস্কারকে একটি চিরন্তন শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এ পৃথিবী খুবই অনিশ্চিত একটি মুহূর্তে অবস্থান করছে এবং আমি আশা করব বর্তমান মুহূর্তের মতো সকল নোবেল পুরস্কার বিশে^র মাঝে কোনো ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এ অনিশ্চিত মুহূর্তে কোনো না কোনোভাবে এ বছরের পরিবেশে কোনো ইতিবাচক অংশগ্রহণে আমি ভীষণ তাগিদ অনুভব করছিলাম।’

পুরস্কার ঘোষণার সময় সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব সারা ডেনিয়াস তার লেখাকে ‘খানিকটা জেন অস্টিনের রম্যের সঙ্গে ফ্রেঞ্জ কাফকার মিশেল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘তবে এর সঙ্গে সামান্য মার্সেল পাউস্ট মেশাবার পর থিতু হলেই কেবল আপনারা তার লেখার সন্ধান পেতে পারেন।’ তাকে ‘মহান এক শুদ্ধ’ লেখক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি পাশে তাকান না। তিনি আপনা থেকে শৈল্পিক মহাবিশ^ গঠন করেছেন।’ কাজুও ইশিগুরো ১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন। সুরে-এর একজন সমুদ্রবিদ হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব পেলে তার বাবা পরিবারসহ ইংল্যান্ড চলে যান। তিনি কেন্ট বিশ^বিদ্যালয়ে ইংরেজি এবং দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি ইস্ট এঙ্গলিয়া বিশ^বিদ্যালয়ে সৃজনশীল লেখালেখিতে এমএ সম্পন্ন করেন। ১৯৮২ সালে তার প্রথম উপন্যাস এ পেল ভিউ অব হিল প্রকাশিত হয়।

গত বছর সংগীত জগতে বিখ্যাত বব ডিলানের নোবেলপ্রাপ্তির তুলনায় চলতি বছর কাজুওর নোবেলপ্রাপ্তিকে অনেকটা বিস্ময় বলেই মনে করছেন সমালোচক মহল। এর কারণ মূলত বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হওয়ার পরও চলতি বছর সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্তির বাছাই তালিকাতে তার নাম দেখতে পাওয়া যায়নি। কাজুওর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি কাজুওর নোবেলপ্রাপ্তিতে তার কাজের প্রশংসা করে আনন্দ প্রকাশ করে গার্ডিয়ানের কাছে এক বার্তা প্রেরণ করেছেন।