ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে

  হারুন-অর-রশিদ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চরম দুঃসময় চলছে ব্যাংকিং খাতের আমানতকারীদের। অলস তারল্যের পাহাড় জমে থাকায় আমানতের বিপরীতে গড়ে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। কোনো কোনো ব্যাংক সর্বনিম্ন ২ শতাংশ সুদেও আমানত নিচ্ছে। তবে আমানতকারীরা ব্যাংকের চেয়ে বেশি সুদ পাচ্ছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করে। বিভিন্ন মেয়াদি আমানতে সর্বনিম্ন ৬ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে। আমানতের বিপরীতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণও দিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গতবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে বর্তমানে ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সারা দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ২২৫টি শাখা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট তহবিলের ৫৯ শতাংশ গ্রাহক থেকে সংগৃহীত আমানত। এ ছাড়া মোট তহবিলের সাড়ে ২৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের ঋণ এবং সাড়ে ১৬ শতাংশ মালিকদের যোগান দেওয়া মূলধন।

প্রচলিত নীতি অনুসারে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ মাসের কম মেয়াদে কোনো আমানত নিতে পারে না। এ জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের বিপরীতে খরচও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মে মাসে আমানতের সুদ পরিশোধে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং তার আগে এপ্রিলে আমানতের সুদ পরিশোদের ব্যয় ছিল ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ আমানতের বিপরীতে সুদ বেশি দিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ব্যাংকের তুলনায় কিছুটা বেশি সুদ দিয়ে থাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আমরা ৩ মাসের কম মেয়াদের আমানত সংগ্রহ করতে পারি না। ব্যাংকের তুলনায় আমাদের সেবার মান ভালো এবং অতি দ্রুত। একটু বেশি সুদে আমানত নেওয়ার কারণে আমাদের ঋণের সুদ হার কিছুটা বেশি। তবে আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান স্প্র্রেড যৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে।

কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ :

আইডিএলসি ফাইন্যান্স : সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার তাগিদে গ্রাহকদের জন্য চারটি পৃথক আমানত প্রকল্প রয়েছে। সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ৩ মাসের জন্য সঞ্চয় করা যায়। রেগুলার টার্ম ডিপোজিটে ৩ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে সর্বনিম্ন সাড়ে ৬ থেকে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে আমানত রাখতে পারেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ৯ বছর ৭ মাস পর দ্বিগুণ এবং ১৪ বছর ৮ মাসে জমাকৃত অর্থ তিনগুণ হবে। আমানতের মেয়াদ শেষ হলে তা অটোমেটিকভাবে নবায়ন হবে।

লংকাবাংলা : আমানতকারীদের জন্য ৯ ধরনের প্রকল্প রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের। আর্ন ফার্স্ট, সহজ সঞ্চয়, ক্লাসিক টার্ম ডিপোজিট, অগ্রজ, ডাবল মানি, ট্রিপল মানি, কুইক সঞ্চয় ও মানি বিল্ডার। সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর মেয়াদে আমানত রাখার সুযোগ রয়েছে। এতে সুদ হার সর্বনিম্ন সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। প্রতি মাস, তিন মাসে, ছয় মাসে, বছরে বা মেয়াদ শেষে মুনাফা গ্রহণের জন্য পৃথক পৃথক প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া ৮ বছর ৬ মাসে দ্বিগুণ এবং ১২ বছরে আমানতের তিনগুণ ফেরত পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার, পাঁচ হাজার, ১০ হাজার ও পঁচিশ হাজার টাকা জমানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমিয়ে ৩ বছর শেষে ২০ হাজার ৭৩২ টাকা, পাঁচ বছরে ৩৮ হাজার ৭১৫ টাকা এবং দশ বছর শেষে ১ লাখ ৫ হাজার ৪০০ টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন আমানতকারীরা।

মাইডাস ফাইন্যান্স : আমানতকারীদের জন্য ৬টি প্রকল্প রেখেছে মাইডাস ফাইন্যান্স। তিন বছর থেকে ১০ বছর মেয়াদ পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমালে তিন বছর ২১ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১০ বছর পর ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩০ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। টার্ম ডিপোজিট স্কিমে ৩ মাসে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ৩৬ মাসে ৯ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে। এক বছর মেয়াদে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ২ থেকে ৫ বছর মেয়াদে রাখলে ৯ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে মাইডাস। ৭ বছর ৩ মাসে ডাবল এবং ১০ বছর ৬ মাসে তিনগুণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে ২ হাজার ৩৫০ টাকা জমা করলে ১৫ বছর পর গ্রাহক লাখপতি করবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট : আমানতকারীদের ৯ শতাংশের উপরে সুদ দিচ্ছে প্রাইম ফাইন্যান্স। ১৫ মাস থেকে ১০ বছর মেয়াদি ৭টি পৃথক প্রকল্প চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। পনের মাস মেয়াদি আমানতে তারা ৯ দশমিক ১০ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ এবং দুই বছর মেয়াদে আমানত রাখলে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে প্রাইম ফাইন্যান্স। গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ ৭ বছরে দ্বিগুণ এবং ১২ বছরে তিনগুণ ফেরত দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

পিপলস লিজিং : আমানতকারীদের ৮টি আকর্ষণীয় প্রকল্পে অর্থ জমা রাখার সুযোগ রেখেছে পিপলস লিজিং। মেয়াদ শেষে প্রকল্প অটোমেটিকভাবে নতুন করে চালু হবে। ৩ মাস থেকে ৩৬ মাস মেয়াদ পর্যন্ত আমানত রাখা যাবে। ছয় বছরে জমার দ্বিগুণ অর্থ দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া ডিবিএইচ, আইপিডিসি, ইউনিয়ন ক্যাপিট্যাল, অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং, ইউনাইটেড লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্সসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আকর্ষণীয় মুনাফায় আমানত গ্রহণ করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে