বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অভিমত

কর আদায় প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে

প্রকাশ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০

রুমানা রাখি

রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসছে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর থেকে। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় এই হার খুবই কম। কর আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব বেশি কাজে আসছে না। কর আদায়ে জটিলতা, হয়রানি, দুর্নীতিই এর মূল কারণ বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন রুমানা রাখি

আদায় প্রক্রিয়া এখনো জটিল -ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

কর আদায় করার জন্য এখন পর্যন্ত অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে; কিন্তু কর আদায় প্রক্রিয়া এখনো জটিল। আয়কর বাড়াতে হলে প্রথমে কর আদায় ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে জনগণ, সরকার ও কর কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে।জটিলতার জন্য করদাতাদের অনাগ্রহের প্রেক্ষাপটে অনলাইনে কর আদায়সহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তাই সরকারকে প্রথমেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আর করব্যবস্থা সহজ

হলেই দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হবে; ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়বে।

নতুন কর আইনে যেসব অসামঞ্জস্যতা আছে তা দূর করতে হবে। তা ছাড়া যারা কর দেবে তাদের কাছে যেতে হবে। কর যে তাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব, সে সম্পর্কে অবগত করতে হবে।

আইনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন জরুরি -ড. নাজনীন আহমেদ

জ্যেষ্ঠ গবেষক, বিআইডিএস

পাঁচ বছর আগে কর ব্যবস্থা যেমন ছিল সে তুলনায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে কর আইনেও। বেড়েছে আওতা। কিন্তু যেসব পরিবর্তন হয়েছে তার বাস্তবায়ন খুব কম দেখা যায়। তার পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে দক্ষ জনবলের অভাব, অনলাইন প্রক্রিয়া চালু না হাওয়া, মাঠপর্যায়ে যথাযথ লোক না থাকা, দুর্নীতি। এসব ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। মানুষকে কর দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ জন্য যথাযথ প্রচার চালাতে হবে। কীভাবে কর দিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না, সে বিষয়ে জোর দিতে হবে। সর্বোপরি নতুন চালু হওয়া কর আইনের সব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষ যখন বুঝবে কর দিতে কোন ঝামেলা নেই, হয়রানি হতে হবে না, তখন এমনিতেই কর দিতে উৎসাহিত হবে মানুষ। ভয়-ভীতি দূর করা গেলেই কর দেওয়ার প্রবনতা বাড়বে। আর এ জন্য সরকারকেই ভূমিকা রাখতে হবে।

ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে -মাতলুব আহমাদ

সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই

ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর দেওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কিন্তু কর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের যে ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে তা তেমন একটা দূর হয়নি। এই ব্যবস্থা সহজ করার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন জরুরি। কর আদায়ের অনলাইন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে কর দেওয়া যে একটি সামাজিক দায়িত্ব তা

বোঝাতে হবে। শুধু কর মেলার সময়ই বিশেষজ্ঞ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কর দেওয়ার প্রক্রিয়া বা টিআইএন

খোলার বিষয়টি জানা যায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সারা বছর

থাকলে করদাতারা সেবা পাবেন। তাই এসব বিষয় তথ্য দেওয়ার জন্য সারা বছরই কিছু লোক থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা কর দেওয়ার ক্ষেত্রে কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রকাশ করলে তা গুরত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

সমন্বিত ওয়ার্ক আউট করতে হবে -কাজী সাজিদ

এমডি, কেপিসি

বর্তমানে যারা ব্যবসা করছেন, তারা করের আওতাভুক্ত হলেই কর দিতে চান। কিন্তু কর দেওয়ার বিষয়টি সহজ নয় এখনো। কর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জ্ঞানেরও কিছুটা অভাব রয়েছে। এই বিষয়টি সহজ করতে এনবিআর ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি ওয়ার্ক আউট করতে হবে। কীভাবে কর দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বসতে হবে। বর্তমানে একজন আমদানীকারককে আমদানি থেকে শুরু করে পণ্য বাজারজাত করা পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ট্যাক্স দিতে হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এই প্রক্রিয়াটি যদি একটি মাধ্যমেই হয়, তা হলে আরও ব্যবসায়ী কর দিতে আগ্রহী হবে। নতুন উদ্যোক্তারা টিএইএন খুলতে অনেক ধরনের সমস্যায় পরে তাও সহজ করার জন্য এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।