রাজস্ব আহরণে শীর্ষে থাকবে আয়কর

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজস্ব আহরণে আয়কর খাতের জোরালো ভূমিকা রয়েছে। যদিও চলতি অর্থবছরে নতুন আইনকে কেন্দ্র করে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত না হওয়ায় এটি সংশোধন করবে সরকার। যদিও গত কয়েক বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভ্যাট। এর আগে ছিল আয়কর। তবে এখন আবার এ খাতকে শীর্ষে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ খাতের অবদান ৩৪ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে মোট রাজস্ব আদায়ের ৫০ শতাংশ আয়কর থেকে আদায় করতে চায়।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন, আগামী দশকের মধ্যে আয়কর খাতে মোট কর রাজস্বের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আহরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আমরা খুব ভালোভাবে অগ্রসর হচ্ছি।

জানা গেছে, এক সময়ে পিছিয়ে থাকা আয়কর খাতটি চলে আসে রাজস্ব আহরণের শীর্ষে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে আয়কর আহরণের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৩৬ লাখ। চলতি অর্থবছরে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকার মোট রাজস্ব বাজেটে আয়কর থেকে আদায় হয়েছিল সোয়া ১৪ হাজার কোটি টাকা। তবে মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দৃশ্যপটে আমূল পরিবর্তন এসেছে। চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে আয়কর খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

রাজস্ব বোর্ডের তথ্যানুসারে, ২০০১-০২ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে মাত্র সাড়ে ১৯ শতাংশ ছিল প্রত্যক্ষ করের অবদান। সেখানে চলতি অর্থবছরে আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া মূসকের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ। যদিও এ লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হবে। আর আমদানি শুল্ক ১২ দশমিক ১ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে আয়করের অবদান ছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাতের অবদান বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়। এর পরের অর্থবছরে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে জাতীয় আয়ের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে সক্রিয় করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখে উন্নীত করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যা ইতোমধ্যে অর্জন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরা দেশে রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসেই বিশাল এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সকল অংশীজন এবং এনবিআরের সহকর্মীদের পরিশ্রমেই ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বর্তমান সরকারকে ‘উন্নয়নের বিশ্ব মডেল’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। জানা গেছে, এ উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিন বছরের অগ্রিম প্রক্ষেপণ করেছেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী আগামী তিন বছরের মধ্যে বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ কোটি টাকা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে নতুন করে আরও ১ কোটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস : চলতি অর্থবছরের অর্থবিলে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেটি আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ৩০ নভেম্বর করা হয়েছে। আর এ দিনটিকেই জাতীয় আয়কর দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবছরই এ নিয়ে বারবার সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে করদাতাদের আর বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না। ৩০ নভেম্বরের পর আর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে না। এবারের বাজেটে আইনি কাঠামো দ্বারা সময় বাড়ানো সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। নির্বাহী আদেশ দিয়ে বারবার আর সময় বাড়ানো যাবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে