হয়রানিই মূল কারণ-

  হারুন-অর-রশিদ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আয়কর আইন অত্যন্ত জটিল হওয়ায় নানা ম্যারপ্যাঁচে করদাতাদের হয়রানি করেন কর কর্মকর্তারা। হয়রানির ভয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের করভীতি কাজ করে। অনেকে নিজের নানা প্রয়োজনে নিবন্ধন করে কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তারা নিয়মিত কর দেন না। কর দিতে গেলে ঘুষ, বিভিন্ন নতুন-পুরনো কাগজপত্র জমা দেওয়াসহ নানা জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, যারা ট্যাক্স দেন তাদের বেশি হয়রানি করা হয়। এতে অনেকে ট্যাক্সের আওতাভুক্ত হতে চান না। এ ছাড়া সর্বোচ্চ কর আদায়কারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণায়ও হয়রানি বেড়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো অভিযোগে এক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন, দেশের করদাতারা আয়কর কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রতারিত বা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। ট্যাক্সের বিরাট অংশ তো আয়কর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পকেটে চলে যায়।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ১ টাকার কর দিতে ৩ টাকার হয়রানি হতে হয়। যারা কর দেন তাদেরকেই বারবার করের জন্য চাপ দেওয়া হয়। করের রিটার্ন সংগ্রহ থেকে শুরু করে জমা দেওয়া এবং সার্টিফিকেট নেওয়া পর্যন্ত সৎ করদাতারা নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হন।

চলতি বছরে ভ্যাট আইনসম্পর্কিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, আমার শ্বশুর এনবিআরের একজন সাবেক সদস্য, তাকেও হয়রানি হতে হয়। আমাদের মতো লোক হয়রানি হলে সাধারণ করদাতা কীভাবে সেবা পাবেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, কর অফিসে যাওয়া অনেক ঝামেলা। কর্মকর্তারা নানা বিষয়ে সন্দেহের চোখে দেখেন। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এ জন্য প্রতিবছরই আইনজীবীর মাধ্যমে কর দিই। এতে আইনজীবীকে বাড়তি পারিশ্রমিক দেওয়া লাগে।

এসব বিষয়ে আমলে নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে প্রতিবছরই বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে এনবিআরে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কর দিতে গিয়ে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তবে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করভীতি দূর করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে