নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত মনোয়ারা এখন স্বাবলম্বী

  রওনক বিথী

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মবিশ^াস আর কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন একসময় নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়া মনোয়ারা বেগম। মনোয়ারা বেগমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে। একসময় সেখানে তার স্বামীর অনেক জায়গাজমিও ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় মনোয়ারাদের ভিটেমাটি, জমিজমা সবকিছু। উপায়ান্তর না পেয়ে মনোয়ারা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে আশ্রয় নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। শুধু শ’খানেক টাকাই ছিল তখন তাদের সম্বল। জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে সংসারের হাল ধরেন মনোয়ারা। কিছু আটা কিনে পিঠা বানানো শুরু করেন বেগম ফয়জুন্নেছা হলের সামনে আর স্বামীকে পরামর্শ দেন কাঁচা তরকারি বিক্রির। জীবনের কঠিন সময়গুলোর স্মৃতি হাতড়ে মনোয়ারা বলেন, ‘পিঠা বানিয়ে আর তরকারি বিক্রি করে কোনোরকমে দুবেলা দুমুঠো খাবার জুটছিল। এভাবে তিন-চার বছর যায়। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে স্বামী মারা যায়। একসময় বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রদের খাওয়ার সমস্যা দেখে মাথায় বুদ্ধি আসে তাদের জন্য রান্না করার। আস্তে আস্তে ছাত্রদের মধ্যে আমার রান্নার চাহিদাও বাড়তে থাকে। দেখতে দেখতে কেটে যায় ১৫-১৬ বছর। সংসারের অভাব দূর হয়। খেয়ে-পরে কিছু পুঁজিও করি। ছেলেগুলারে বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দিই। জমানো টাকা দিয়ে বটতলায় একটা বড় ভাতের হোটেল দিই। বেশ লাভও হতে থাকে হোটেলে। লাভের টাকা দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পেছনে জায়গা নিয়েছি, ঘর তুলেছি। ছেলে-বউ নিয়ে এখন বেশ সুখেই আছি।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সবার কাছে মনোয়ারা বেগম বটতলার খালা নামে পরিচিত। বটতলার ৪০টি দোকানের মধ্যে একমাত্র তিনিই একজন নারী, বড় ভাতের হোটেল পরিচালনা করছেন। তার হোটেলের মাধ্যমে ১২ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। মনোয়ারা বেগমের আজকের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে ৩২ বছরের কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ^াস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে