বিবাহিত নারীদের অর্ধেকই পারিবারিক সহিংসতার শিকার

  অনলাইন ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বদ্ধঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার কথা কেউ জানবে, এটা কেমন কথা! স্বামী দু-চারটা চড়-থাপ্পড় মারতেই পারেন! দুটো গালমন্দ না হয় করলেনই! চুপচাপ সেসব সহ্য না করলে তো ‘ভালো বউ’ হওয়া যাবে না। সমাজের চোখে ‘ভালো’ হতে গিয়ে, বিবাহিত নারীরা প্রতিনিয়ত মুখ বুজে সহ্য করছে নানা ধরনের পারিবারিক নির্যাতন। যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি গুরুতর না হয়, ততক্ষণ অন্যদের কাছে অজানাই থেকে যায় বিষয়টি। পারিবারিক সহিংসতার সব খবর গণমাধ্যমে আসে না। তার মানে এই নয় যে, নির্যাতন কমে গেছে। বরং বিবাহিত নারীদের অর্ধেকই পারিবারিক সহিংসতার শিকার। ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্সের (বিআইজিডি) উদ্যোগে পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক মাহবুবুল হক গবেষণাকেন্দ্রের দক্ষিণ এশিয়ার মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন, ২০১৬-তে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার নারী উন্নয়নে অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিআইজিডির ভিজিটিং ফেলো মাহিন সুলতানা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিবাহিত নারীদের অর্ধেকই পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন। আর বিশে^র মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ (১৮ বছরের নিচে) হয় দক্ষিণ এশিয়ায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চাকরির ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এই অগ্রগতি ধীরগতির। বিশেষ করে মফস্বল, শহরের বস্তির নারীরা এখনো পিছিয়ে আছেন। ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুলনা করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। ২০০০ সালে ছিল ১০ দশমিক ৪ শতাংশ, সেটা বেড়ে ২০১৪ সালে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, উন্নত বিশে^র দিকে তাকালেও দেখা যাবে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা। ২০১৫ সালে দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজন স্বামীর হাতে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এত সচেতনতা, এত চেষ্টার পরও কেন পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না? এ বিষয়ে মহিলা আইনজীবী সমিতির নেত্রী ও বিশিষ্ট আইনজীবী সালমা আলী বলেন, নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ হলো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। ঐতিহাসিকভাবে পুরুষরা স্ত্রীদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে আসছে। পুরুষ নিজেকে পরিবারের প্রধান হিসেবে ভেবে আসছে। এসব কারণে নারী নির্যাতন কমছে না, বরং বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এক সময় মনে করা হতো স্বামীর দ্বারা দৃশ্যমান নির্যাতনই যেমনÑ মাথা ফাটিয়ে রক্ত বের করা, যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন এসবই কেবল পারিবারিক নির্যাতন। কিন্তু ‘পারিবারিক নির্যাতন ও সুরক্ষা আইন ২০১০’-এ পারিবারিক নির্যাতনের মধ্যে মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, খোঁটা দেওয়া, অর্থনৈতিক নির্যাতন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ সংক্রান্ত আইনগুলোর পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা গেলে পারিবারিক নির্যাতন অনেকটাই কমে আসবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে