মেডিক্যাল টেকনোলজিতে নারী

 

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সফল পদচারণা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। বিভিন্ন পেশাতে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। তেমনি একটি পেশা মেডিক্যাল টেকনোলজি। বর্তমানে মেডিক্যাল টেকনোলজিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নারীরা। লিখেছেনÑ রওনক বিথী

গতানুগতিক শিক্ষাধারার বাইরে এসে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়গুলো। বিশেষ করে কর্মমুখী ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এখন বেশি দেখা যায়। তাই এসএসসি বা এইচএসসি পাস করার পর কোন বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হবে, তা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এখন অভিভাবকরাও বেশ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্ভাবনাময় পেশাগুলোকে এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে তেমনি একটি সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র হলো মেডিক্যাল টেকনোলজি; শুধু সম্ভাবনা নয়, মেডিক্যাল টেকনোলজি পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে মানবতাবোধ, সেবা ও সহমর্মিতাও। ফলে এ সেক্টরে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন নারীরা।

চার বছর ধরে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে কাজ করছেন সুমি আক্তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেবা ও সহমর্মিতার পেশা মেডিক্যাল টেকনোলজিতে বর্তমানে নিপুণ হাতে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের নারীরা। ফলে মেডিক্যাল টেকনোলজিতে নারীদের অংশগ্রহণের পথ এখন সুগম হয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ২৯টি আর বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৬৯টি। রাজধানীসহ সারা দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা শহরে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আরও রয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। গড়ে উঠছে নতুন নতুন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানও। রোগ নির্ণয়ে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নানাভাবে সহযোগিতা করার জন্য কিছু সহকারীর প্রয়োজন হচ্ছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রতি একজন গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন হয়। সে মোতাবেক বর্তমানে বাংলাদেশে দুই লাখ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। অথচ মেডিক্যাল টেকনোলজি শিক্ষা কোর্স কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান দায়িত্বে থাকা স্টেট মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট কোর্স সম্পন্ন করতে পেরেছেন। যেখানে তুলনামূলক নারীদের সংখ্যা বেশ কম। পুরুষের পাশাপাশি মেডিক্যাল টেকনোলজিতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে নারীদেরও। একসময় ডাক্তার কিংবা নার্সিং পেশায় নারীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেলেও মেডিক্যাল টেকনোলজিতে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। চাহিদা, সুযোগ ও সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে মেডিক্যাল টেকনোলজি পেশায় নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেডিক্যাল টেকনোলজিতে বর্তমানে নারীদের অংশগ্রহণ ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (বিমস) থেকে ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিনে পাস করেন শিরিন আক্তার। বর্তমানে তিনি ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, মেডিক্যাল টেকনোলজিতে দিন দিন নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। কর্মক্ষেত্রে নারী টেকনোলজিস্টদের চাহিদা এবং সম্মানও বেশ। একজন রেডিওলজিস্ট ও প্যাথলজিস্টের অবশ্যই তার কাজে পরিপূর্ণ দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হবে। এখানে কোনো রকমের ভুল হলে একজন রোগীর পুরো চিকিৎসাতেই ভুল থেকে যাবে। কারণ চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র টেকনোলজিস্ট মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, আমাদের দেশে মেডিক্যাল সেক্টর দিন দিন উন্নত হচ্ছে। ফলে নারী মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা দিন দিন এ পেশায় কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং নারীরা বেশ সুনামের সঙ্গে এ পেশায় কাজ করে যাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে