অ্যাঙ্গেলা মারকেল : নারী নেতৃত্বে আস্থার প্রতীক

প্রকাশ | ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০

শান্তা মারিয়া

ইউরোপ এবং বিশ্ব নেতৃত্বে অ্যাঙ্গেলা মারকেল এমন এক নাম, যিনি ইতিহাস গড়েছেন। টানা চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। অথচ রাজনীতিতে তার আসা অনেকটা হঠাৎ করেই। অ্যাঙ্গেলা মারকেলের জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির হামবুর্গে। অ্যাঙ্গেলা ডরোথিয়া কাসনার ছিল তার কুমারী জীবনের নাম। পরিবারের সঙ্গে অতি শৈশবেই (তিন মাস বয়সে) পূর্ব জার্মানিতে চলে যান তিনি। স্কুলে তিনি রুশ ভাষায় ও গণিতে দক্ষতা লাভ করেন। লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের তুখোড় ছাত্রী ছিলেন অ্যাঙ্গেলা। বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রিতে মৌলিক গবেষণার জন্য ডক্টরেট পান তিনি। ১৯৭৭ সালে তিনি বিজ্ঞানী ইউরিখ মারকেলকে বিয়ে করেন। ১৯৮২ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে গেলেও অ্যাঙ্গেলা তার পদবি বদলাননি। ১৯৮৯ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির একত্রীকরণের সময় তিনি পূর্ব জার্মানির সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী লোথার ডে মেসিয়ারের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে রাজনীতির জগতে প্রবেশ করেন। বৃহত্তর জার্মানির প্রথম নির্বাচনে তিনি পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন চ্যান্সেলর হেলমুট কোহলের মন্ত্রিসভার যুব ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী। তখন তার বয়স মাত্র ৩৫ বছর। তিনি ওই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তিনি ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের সভাপতি হন। ২০০৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর হন। সেই প্রথম জার্মানিতে চ্যান্সেলর হিসেবে কোনো নারী শপথ গ্রহণ করেন। এর পর থেকে জার্মানির মতো একটি প্রভাবশালী দেশকে যোগ্যতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন অ্যাঙ্গেলা মারকেল।

১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানী জোয়াকিম সয়্যারকে বিয়ে করেন অ্যাঙ্গেলা। তবে দেশটির ‘ফার্স্ট ম্যান’ হিসেবে খুবই নিভৃতচারী জোয়াকিম সয়্যার। রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত সফল অ্যাঙ্গেলা তার দৃঢ়তার জন্য ‘আয়রন লেডি’ উপাধি পেয়েছেন মার্গারেট থ্যাচারের মতো। ১৯৯৫ সালে একবার কুকুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাণীটিকে ভয় পান মারকেল। ২০০৭ সালে এক প্রেস কনফারেন্সে নিজের ল্যাব্রাডর রিট্রিভার কুকুরকে নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রবেশ মারকেলকে অস্বস্তিতে ফেলে। পুতিন অবশ্য বলেন যে, চ্যান্সেলরকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য তার ছিল না। কিন্তু এ বিষয়ে অ্যাঙ্গেলা মারকেল পরে মন্তব্য করেন, ‘আমি জানি কেন তিনি এমনটি করেছেন। তিনি যে একজন পুরুষ, সেটা প্রমাণ করতেই। নিজের দুর্বলতাকে তিনি নিজেই ভয় পান।’

জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ও সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে অ্যাঙ্গেলা মারকেল নারী নেতৃত্বের প্রতি উন্নত বিশ্বের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।