বেশিরভাগ কর্মস্থলে নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার

  রওনক বিথী

০৮ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য অধিকাংশ কর্মস্থলেই নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জন্য আদর্শ পুষ্টিকর খাবার। মাতৃদুগ্ধ পানে সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ কমার পাশাপাশি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশও ঘটে পরিপূর্ণভাবে।

অথচ কর্মস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না কর্মজীবী নারীরা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, দেশের মায়ের দুধ পানের হার আগের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা না পাওয়ার কারণেই কর্মজীবী মায়ের সন্তানরা বুকের দুধ পান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৪ অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৫৫ শতাংশ শিশুকে জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ পান করানো হচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্বের সর্বত্র এ হার হওয়া উচিত ৯০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, ব্রেস্টফিডিং কর্নার ও ডে কেয়ার সেন্টার না থাকায় কমছে শিশুদের বুকের দুধ পানের হার। ধারাবাহিকভাবে উন্নতির কথা থাকলেও আগের বছরগুলোর তুলনায় ২০১৪ সালে এ হার ৯ শতাংশ কমেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সরকারির মতো বেসরকারি পর্যায়েও মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হয়নি। কিছু ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুটিকয়েক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হলেও, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় তিন-চার মাস। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে কোনো মাতৃত্বকালীন ছুটিই নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে গর্ভকালীন অধিকাংশ নারীকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। অনেকেই আবার স্বল্প সময় ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগদান করছেন। এতে নবজাতক বঞ্চিত হয় মাতৃদুগ্ধ পানের সুযোগ থেকে।

২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশে প্রতিবছর মাতৃদুগ্ধ দিবস পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, কলকারখানা, শপিংমলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানÑ এমনকি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশনেও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্দেশনার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশের গুটিকয়েক অফিস-আদালত, হাসপাতাল ও শপিংমল ছাড়া অধিকাংশ শপিংমল, কলকারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য এখনো গড়ে তোলা হয়নি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। এ সম্পর্কে আইওয়াইসিএফ (ইনফ্যান্ট অ্যান্ড ইয়াং চাইল্ড ফিডিং) নীতিমালা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় অল্প কয়েকটি শিশু দিবাযতœ থাকলেও নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ কিছু হাসপাতালে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার থাকলেও অধিকাংশ সময় তা বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ব্র্যাকের হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রাইসুল হক জানান, আইওয়াইসিএফ নীতিমালা মানা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। আমরা বিজিএমইএর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করেছি যে, কর্মস্থলে শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর সুযোগ করে দিতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার গড়ে তোলা হবে। শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ অপরিহার্য। কর্মজীবী মায়ের সন্তানরা যাতে এ অপরিহার্য সুযোগটি থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে