বৈশাখে ব্যস্ত জয়িতার নার্গিস

  আঞ্জুমান আরা

০৮ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের মেয়ে নার্গিস ইয়াসমিন। খুব সাধারণ গ্রামীণ জীবনে বেড়ে উঠলেও স্বপ্ন দেখতেন গ্রামের নারীদের উন্নয়নে কাজ করবেন। গ্রামীণ নারীদের উন্নয়ন করতে হলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সক্ষম করে তুলতে হবে এবং নিজেকেও স্বাবলম্বী হতে হবে, এমন চিন্তা থেকে নার্গিস ইয়াসমিন টেইলারিং, হ্যান্ডিক্রাফট, ড্রাইফুড, বাঁশ, বেতের কাজ, কম্পিউটারসহ নানা ধরনের কাজে দক্ষতা অর্জন করেন। এর পর নিজের টিউশনির জমানো টাকা দিয়ে সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গ্রামের ৩০ জন মহিলাকে টেইলারিং, হ্যান্ডিক্রাফট, সেলাই প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন নার্গিস ইয়াসমিন। ১৯৯৬ সালে জেলা প্রশাসকের উৎসাহ ও সহযোগিতায় গড়ে তোলেন সুপ্রভাতী শিশু ও মহিলা উন্নয়ন সংস্থা। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে সংস্থাটির রেজিস্ট্রেশন হয়। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নার্গিস ইয়াসমিনের। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, পাশাপাশি দারিদ্র্য দূর করে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন গ্রামের আরও অসংখ্য নারীকে।

নার্গিস ইয়াসমিনের তত্ত্বাবধানে হোম ডেকোরেটেড, বাঁশ ও বেত দিয়ে নানা ধরনের গৃহসামগ্রী, হাতের কাজ, সেলাই, ড্রাইফুডসহ নানা ধরনের কাজে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন গ্রামের অসংখ্য নারী। বর্তমানে তার সংস্থায় কাজ করছেন ৩৫ জন নারী। এ ছাড়া হোম ডেকোরেটেড আইটেম, ফুড আইটেমসহ হ্যান্ডিক্রাফটের সামগ্রীর মধ্যে চাদর, কুশনকভার, পর্দা, শাড়ি, বাঁশ ও বেতের গৃহসজ্জার সামগ্রীসহ নানা কিছু তৈরির কাজ করছেন গ্রামের অসংখ্য নারী।

সুপ্রভাতী শিশু ও মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সিসিডিবি প্রজেক্টের অর্থায়নে শিশুবিষয়ক নানা ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল। ইলটন জন এইড ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ২০০৫ সালে এইচআইভি এইডস সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। সুপ্রভাতী শিশু ও মহিলাবিষয়ক উন্নয়ন সংস্থাটি ২০১১ সাল থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত জয়িতায় অংশগ্রহণ করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নার্গিস ইয়াসমিন ২০০১, ২০০২ ও ২০০৪ যুবমেলা পুরস্কার অর্জন করেন।

সম্প্রতি জাপানে হোম ডেকোরেটেড সামগ্রী সরবরাহের অর্ডার পেয়েছেন নার্গিস ইয়াসমিন। অর্ডারের জন্য পণ্য প্রস্তুতের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্গিস ইয়াসমিন ও তার সংস্থার নারীকর্মীরা। প্রতিবারের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পৌরমেলায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নার্গিস ইয়াসমিন। পরিকল্পনা রয়েছে এবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ড্রাইফুডের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন। গ্রামবাংলার পিঠা বাঙালি ঐতিহ্য বহন করে। এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এবার পহেলা বৈশাখের মেলায় নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে নার্গিস ইয়াসমিনের। মেলায় নিজের তৈরি ১২ রকম মসলা দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ মসলা এবং হারবাল তেলও রাখা হবে।

নার্গিস ইয়াসমিন স্বপ্ন দেখেন গ্রামের প্রতিটি নারী একদিন স্বাবলম্বী হবেন। স্বাবলম্বী, সক্ষম ও নিজের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবেন। আর এ জন্য গ্রামের প্রতিটি নারীকে প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে কাজ করে যেতে চান নার্গিস ইয়াসমিন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে