সাইবার অপরাধের শিকার নারীরা

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কলেজ থেকে ইলোরার (ছদ্মনাম) সঙ্গে রাকিবের প্রেম শুরু। দুজন দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তাদের সম্পর্ক অটুটই ছিল। এর মধ্যে রাকিব মাদকাসক্ত হয়ে যাওয়ায় ও নানা কারণে তাদের সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। রাকিব তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ইলোরার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। রাকিব ইলোরাকে নানাভাবে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাদের অন্তরঙ্গ ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় রাকিব। ওলটপালট হয়ে যায় ইলোরার জীবন। র‌্যাব ও পুলিশের সাহায্যে রাকিবকে শাস্তি দেওয়া গেলেও ওই ঘটনার জন্য এখনো ইলোরা এবং তার পরিবারকে শুনতে হয় নানা মন্তব্য।

এ রকম বহু ঘটনা প্রায়ই ঘটছে আমাদের চারপাশে। কিছু বিকৃত রুচির মানুষের জন্য শুধু বাস্তব জীবনেই নয়, ইন্টারনেটে হয়রানির শিকার হয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে ভুগতে হচ্ছে বহু নারীকে। অনেকে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। দুঃখের বিষয় হলোÑ ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৪ থেকে ২৪-এর মধ্যে, অর্থাৎ কিশোরী।

কোনগুলো সাইবার ক্রাইম : ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ মেসেজ, শরীর নিয়ে মন্তব্য ও গালাগালি, ব্লাকমেইল ও হুমকি দেওয়াÑ এগুলোকে সাইবার বুলিং বলা হয়। এ ছাড়া ফেক প্রোফাইল চালানো, মোবাইল নাম্বার ছড়িয়ে দেওয়া, ফটোশপের মাধ্যমে বিকৃত ছবি তৈরি, অনুমতি ছাড়া অন্যত্র ছবি, ভিডিও ও মেসেজের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া এসবই সাইবার ক্রাইমের আওতায় পড়ে।

সাইবার হয়রানি এড়াতে : ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের হওয়া উচিত আরও বেশি সচেতন। আজ যার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে, কাল সেটি নাও থাকতে পারে। আর তাই ছবি তোলা বা আপলোডের সময় অনেক বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত যে কোনো তথ্য শেয়ারের ক্ষেত্রেও সাবধান থাকতে হবে। এ জন্য বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হলে আর নিয়মিত প্রোফাইলে চোখ রাখলেই এ ধরনের বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব। যাকে-তাকে, বিশেষ করে অচেনা লোককে বন্ধু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

হয়রানির শিকার হলে যা করবেন : যদি উপরোক্ত ঘটনাগুলোর কোনোটি আপনার সঙ্গে ঘটে, তাহলে আপনি সাইবার হয়রানির শিকার। এমতাবস্থায় অনেকে পরিবারকে জানাতে দ্বিধা করে, যা একটি বড় ভুল। প্রথমে পরিবারে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করুন। পরিবারে কাউকে না জানাতে পারলে, খুব কাছের কাউকে জানান। যে বা যারা এসব করছে, তারা পরিচিত হলে পরিবার থেকে তাদের সঙ্গে আপসের ব্যবস্থা করুন।

নিতে হবে আইনি ব্যবস্থা : ফেসবুকে ব্লক দেওয়া বা ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করাটা সমাধান নয়, বরং রুখে দাঁড়ান এদের বিরুদ্ধে। প্রথমত. থানায় জিডি করুন। পুলিশকে পুরো ঘটনা বুঝিয়ে বলুন। অভিযোগ জানাতে পারেন র‌্যাবের কাছেও। এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন ওমেন সাপোর্ট ডিভিশন, জাস্টিস ফর ওমেনসহ বিভিন্ন সংস্থায় অভিযোগ করা ও মামলা করা যেতে পারে। সাইবার ক্রাইমের জন্য সর্বনিম্ন দুই মাস ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-ের এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। সাইবার নিরাপত্তার জন্য অভিযোগ জানাতে পারেন এই ০১৭৬৬-৬৭৮৮৮৮ নম্বরে। যে কেউ সাইবার অপরাধের শিকার হলে এই হটলাইনে ফোন করেও অভিযোগ জানাতে পারেন।

হ ফয়সাল চৌধুরী স্বরূপ

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে