ল্যাপটপ কেনার আগে

  অনলাইন ডেস্ক

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে

কম্পিউটারের

বদলে ল্যাপটপ নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস হয়ে গেছে। তাই বাজারে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মডেলের নানা দামের আর কনফিগারেশনের ল্যাপটপ কম্পিউটার। এজন্য ল্যাপটপ কেনার সময় বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। এ বিষয়ে লিখেছেনÑ

বরকত উল্লাহ সাবা

ব্র্যান্ড

সব প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রেই আমাদের প্রত্যেকের কিছু পছন্দের ব্র্যান্ড রয়েছে। কারো পছন্দ স্যামসাং, কারো ডেল আবার কারো এইচপি। ল্যাপটপের ক্ষেত্রে পরিচিত সবগুলো ব্র্যান্ডের পারফরম্যান্স প্রায় একই রকম। বেশি কম দামি ব্র্যান্ডগুলো ছাড়া মাঝারিমানের প্রায় সবগুলো ব্র্যান্ডই ভালো। তবে মডেলভেদে অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সেরা ল্যাপটপটি কেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলোÑ যেই মডেলটি পছন্দ হবে সেই বিশেষ মডেলটি সম্পর্কে ইন্টারনেট থেকে একটু জেনে নেওয়া বা কিছু রিভিউ দেখে নেওয়া। এতে সেই নির্দিষ্ট মডেলটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

 

স্ক্রিন সাইজ

মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন, এই জাতীয় পণ্যগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন প্রায় একই রকম। তবে ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। যারা ব্যবসায়িক বা পড়ালেখার কাজে ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের বিভিন্ন সময়ে এটি বহন করে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। সেই ক্ষেত্রে ল্যাপটপের আকার বা স্ক্রিন সাইজ খুব বড় না হওয়াই ভালো। সর্বোচ্চ ১৩.৫ ইঞ্চি স্ক্রিনই এক্ষেত্রে যথেষ্ট। অন্যদিকে যারা গেম খেলার জন্য অথবা ভিডিও বা ছবি সম্পাদনার কাজে এটি ব্যবহার করবেন তাদের উচিত একটু বড় স্ক্রিনযুক্ত ল্যাপটপ কেনা।

প্রসেসর, র‌্যাম, স্টোরেজ

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে প্রসেসর, র‌্যাম এবং স্টোরেজ যত বেশি হবে ততই ভালো। তবে প্রয়োজনভেদে এগুলোর চাহিদা কম-বেশি হয়। আপনি যদি পড়ালেখা, অফিসের কাজ করা বা ইন্টারনেট চালানোর জন্য এটি ব্যবহার করেন তাহলে কোরআই৩ প্রসেসর আর ৩ জিবি র‌্যামই যথেষ্ট। আর যদি ছবি সম্পাদনা বা গ্রাফিক্স ডিজাইনে এ ধরনের কাজ করে থাকেন তাহলে কোরআই৫ আর অন্তত ৪ জিবি র‌্যাম ব্যবহার করুন। ভিডিও সম্পাদনা, উচ্চমাত্রার গেম বা এ জাতীয় বড় সফটঅয়্যার ব্যবহার করলে কোরআই৭ এবং অন্তত ৮ জিবি র‌্যাম ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। স্টোরেজের ক্ষেত্রে ফ্যাশ ড্রাইভ আর হার্ড ড্রাইভÑ এ দুটি থেকে যে কোনো একটি বেছে নিতে পারেন। হার্ড ড্রাইভে স্টোরেজ বেশি হয় তবে গতি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ফ্যাশ ড্রাইভে স্টোরেজ কম হলেও গতি হবে বেশি। এটি আকারেও ছোট হয়ে থাকে।

 

ব্যাটারি

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এর যেন ব্যাটারির লাইফ বেশি থাকে। যেহেতু এটি একটি বহনযোগ্য ডিভাইস তাই এর জন্য ভালো ব্যাটারি লাইফের বিকল্প নেই। সাধারণ ব্যবহারে অন্ততপক্ষে ৪-৫ ঘণ্টা সাপোর্ট দেয় এমন ল্যাপটপ কেনাই ভালো।

 

দরদাম

বাজারে বিভিন্ন মূল্যের ল্যাপটপ রয়েছে। পড়ালেখা বা সাধারণ ব্যবহারের জন্য ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ল্যাপটপ পাওয়া যাবে। আর ভালোমানের ছবি সম্পাদনা বা মাঝারি আকারের বিভিন্ন কাজের সফটঅয়্যার ব্যবহারের জন্য ৪৫,০০০-৫০,০০০ টাকার মধ্যে খুব ভালোমানের ল্যাপটপ পাবেন। এগুলোতে মাঝারি আকারের ভিডিও সম্পাদনাও করতে পারবেন। আরও বেশি খরচ করতে চাইলে ১,৫০,০০০-২,০০,০০০ টাকা বা এর চেয়ে বেশি দামের ল্যাপটপও বাজারে পাওয়া যায়।

 

আরও কিছু বিষয়

ল্যাপটপের কিবোর্ড সাধারণত তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, তাই প্রাত্যহিক কাজের জন্য একটি অতিরিক্ত কিবোর্ড ব্যবহার করুন। বিভিন্ন বড় ফাইল রাখার জন্য ল্যাপটপের স্টোরেজের পরিবর্তে এক্সটারনাল স্টোরেজ ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্ট কম ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ইউএসবি অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করতে পারেন। ল্যাপটপ কখনই খাটে রেখে ব্যবহার করবেন না। এতে ল্যাপটপ দ্রুত গরম হবে যা ক্ষতিকর।

 

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে