নিজেকে রক্ষায় অ্যাপস

সেল্ফ প্রটেক্ট

  অনলাইন ডেস্ক

১৮ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাস্তা কিংবা যে কোনো স্থানে অনাকাক্সিক্ষত বিপদে পড়তে পারেনÑ সেটি হতে পারে বখাটে বা ছিনতাইকারীর হামলা। এ ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে মাথা স্থির রাখা কঠিনই বটে। কিন্তু হাতে থাকা মুঠোফোনটাই পুলিশকে জানিয়ে দিতে পারবে আপনার বিপদের কথা। ‘সেল্ফ প্রটেক্ট’ নামে এমনই এক অ্যাপ বানিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী

মো. সাদ্দাম হোসেন

যেভাবে অ্যাপটি কাজ করে

অ্যাপটি প্রথমে স্মার্টফোনে ইন্সটল করতে হবে। এর দুটি অংশ। একটা হচ্ছে কায়েন্ট বা ইউজার অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে থাকবে। আরেকটি হচ্ছে সার্ভার অ্যাপ বা নোটিফিকেশন রিসিভার অ্যাপ, যেটি পুলিশের কাছে বা পুলিশ স্টেশনে থাকবে। এরপর অ্যাপটি এনাবল (সক্রিয়) করতে হবে। নির্দিষ্ট বক্সে টিকচিহ্ন দিয়ে অ্যাপটি সক্রিয় রাখতে হবে। সেবা পাওয়ার জন্য অ্যাপসটিকে সব সময় সক্রিয় রাখতে হবেÑ যাতে যে কোনো বিপদের সময় নির্দিষ্ট পাওয়ার বাটনটি পর পর চারবার প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বার্তা (নোটিফিকেশন) পৌঁছে যাবে।

বিপদে পড়লে বা সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তি তার কাছে মোবাইল ফোনের নির্দিষ্ট বাটনটি চাপলে অ্যাপটি প্রথমে ব্যক্তির সবচেয়ে কাছের পুলিশ স্টেশনটির অ্যাপ খুঁজে বের করবে। তারপর জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ স্টেশনের সার্ভারে জানাবে। ব্যবহারকারী যে এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানকার আশপাশের শব্দ ও ছবি ধারণ করে পুলিশ স্টেশনে পাঠাবে অ্যাপটিÑ যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সাহায্যার্থে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে। পুলিশ স্টেশনের অ্যাপের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও একই বার্তা মোবাইলে পৌঁছে যাবে টেক্সট মেসেজ আকারে। সার্ভারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্বরত নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির নোটিফিকেশনটি টেক্সট মেসেজ আকারে পৌঁছে যাবে।

অ্যাপটি ব্যবহার করতে ব্যবহারকারীর কোনো ইন্টারনেট সংযোগ বা ডাটা অন থাকার প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকলেও জিপিএস চালু থাকার কারণে সার্ভিস প্রভাইডার বা মোবাইল অপারেটরের সাহায্যে বার্তাটি পুলিশ স্টেশনে পৌঁছাবে। তবে সার্ভার অ্যাপ্লিকেশন বা পুলিশের কাছে থাকা অ্যাপে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবেÑ যেন ব্যবহারকারী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ বার্তাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানটি গুগল ম্যাপে দেখে শনাক্ত করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি একবার নির্দিষ্ট বাটন প্রেস করার মাধ্যমে যেভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে যাবে, তেমনি ছিনতাইকারীরা ওই ব্যক্তির হ্যান্ডসেট থেকে সিম পরিবর্তন করলেও নির্দিষ্ট সময় পর পর ছিনতাইকারীর অবস্থানের তথ্য নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের সার্ভারে আসতে থাকবে। স্মার্টফোন ছাড়া সাধারণ ফিচার ফোনগুলোর জন্য সেটআপ টেক্সট অপশন থাকবেÑ যাতে করে টেক্সটটি নির্দিষ্ট এসএমএস সার্ভার নম্বরের মাধ্যমে পুলিশের সার্ভারে পৌঁছে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের তুলনায় ফিচার ফোন ব্যবহারকারীরা একটু দেরিতে সেবা পাবেন। অ্যাপটি ডেভেলপ করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য। এর পাশাপাশি উইন্ডোজ আর আইওএসের জন্যও অ্যাপটি ডেভেলপ করার কাজ চলছে।

সাদ্দাম হোসেন জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্্মেদ পলক সরকারিভাবে অ্যাপটি বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া পুলিশের সিআইডি হেডকোয়ার্টারের সাইবার ক্রাইম ইনফরমেশন সেন্টার থেকে অ্যাপটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতিবাচক অনুমতি দিয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমতি সাপেক্ষে অ্যাপটি মার্কেট প্লেসে আনা হবে। বর্তমানে সাদ্দাম এই ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের (সম্মান) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। সাদ্দাম জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি সেলফ প্রটেক্টের কাজ শুরু করেন। সরকারের আইসিটি বিভাগের অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে তার এই আইডিয়ার কথা জানালে প্রশিক্ষকরা তাকে উৎসাহিত করেন, একই সঙ্গে সহযোগিতাও করেন। ছোট্ট প্রশিক্ষণ আর ইন্টারনেট থেকে গাইড নিয়ে শুরু হয় তার অ্যাপ তৈরির কাজ। কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় তার কাজ আরও সহজ হয়ে যায়।

এখনো অ্যাপটির উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ করছেন তিনি। সাদ্দাম বলেন, অ্যাপটি জননিরাপত্তামূলক ও অপরাধ দমন-সংক্রান্ত হওয়ায় গুগল প্লে-স্টোর বা অন্যান্য মার্কেট প্লেসে দিতে গেলে পুলিশ সদর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এ জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবনী অনুদানের প্রকল্প ও পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করেছেন সাদ্দাম। টাকা ও অনুমোদন পেলে অ্যাপটি গুগল প্লেসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় তুলে দিতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে