২০১৯ সালে মেট্রোরেল চালুর সম্ভাবনা নেই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:৫৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোরেল সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পের একটি। ২০১৯ সালে রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর টার্গেট রয়েছে সরকারের। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর সম্ভাবনা নেই। এর বড় কারণ ২০২০ সালের আগে ট্রেন সরবরাহ করতে পারবে না চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতেই ২০২০ সাল পার হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে মেট্রোরেল প্রকল্প পরিদর্শন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। পরিদর্শনকালে প্রকল্পটির ৮টি প্যাকেজের অগ্রগতি পর্যালোচনাপূর্বক বলা হয়, প্রতিটি প্যাকেজের কাজই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩টি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগÑ

প্রথমত, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট। প্যাকেজ ৩ ও ৪-এর আওতায় উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) নির্মাণ করা হবে। ২০১৯ সালের আগে ১২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা কঠিন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্যাকেজ ৩ ও ৪-এর নির্মাণকাজ প্রায় ১২ কিলোমিটার। রাস্তার মিডিয়ান বরাবর ১১ মিটার স্থানজুড়ে ফেঞ্চিং করে নির্মাণ কার্যক্রম চালানো হবে। ফলে সড়কের প্রশস্ততা কমে যাবে।

দ্বিতীয়ত, বিদেশি জনবলের নিরাপত্তা প্রদান। প্যাকেজ ৩ ও প্যাকেজ ৪-এর নির্মাণকাজ ১২ কিলোমিটার এবং প্যাকেজ-৫ ও প্যাকেজ-৬ এর দৈর্ঘ্য আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার। ওই প্যাকেজের অধীনে কর্মরত বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি জনবলের নিরাপত্তা প্রদান।

তৃতীয়ত, ইউটিলিটি স্থানান্তরে জটিলতা। প্যাকেজ-৫ ও প্যাকেজ-৬ এর অ্যালাইনমেন্ট বরাবর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রাস্তায় মাটির ওপরে ও নিচে অবস্থিত বিভিন্ন পরিষেবা স্থানান্তর করা হবে। এ সময় রাস্তা খনন, মিডিয়ানের গাছপালা, বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি, সিগন্যাল বাতি, পানির পাইপ, ভূ-গর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন, টেলিফোন/ইন্টারনেট লাইন ইত্যাদি স্থানান্তর করা।

জানা গেছে, বর্তমানে চলছে পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরের কাজ। এ কাজ করতে অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। এরপর শুরু হবে মেট্রোরেল নির্মাণকাজ। আগামী বছরের আগে এই নির্মাণ শুরুর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ডিপোর জমি উন্নয়নের কাজ চলছে। এরপর শুরু হবে ডিপো নির্মাণ। মেট্রোরেলের জন্য ২৪ সেট ইঞ্জিন-কোচ তথা পূর্ণাঙ্গ ট্রেন কেনা হবে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি কনসোর্টিয়াম ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ সেট ট্রেন সরবরাহ করবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে আরও ১৯ সেট ট্রেন ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ শুরু করবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এরপর চুক্তিটি ডিজাইন বিল্ড অর্থাৎ ট্রেনের নকশা প্রণয়ন করবে। আর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তা অনুমোদন করবে। এরপর শুরু হবে ট্রেন নির্মাণ।

আর প্যাকেজ-৮-এর আওতায় ইঞ্জিন-কোচ ও ডিপো ইকুইপমেন্ট কেনার চুক্তি হওয়ার কথা ছিল গত জানুয়ারিতে। আর তা ২০১৯ সালের অক্টোবরে সরবরাহ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল। তবে চুক্তি সাত মাস পিছিয়ে যাওয়ায় ক্রয় প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যাচ্ছে। এই প্যাকেজের সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছেÑ গত ৬ আগস্ট জাপানের কাওয়াসাকি মিতসুবিসি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ডিএমটিসিএলের (মেট্রোরেল কোম্পানি) মোট ২৫৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় চুক্তি হয়েছে। ওই প্যাকেজের বাস্তব কাজ চলতি বছরের নভেম্বরে শুরু হবে, শেষ হবে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর। এ প্যাকেজের আওতায় ২৪ সেট ট্রেন কেনা হবে। প্রতি ৬ সেটে ৬টি কোচ অর্থাৎ ১৪৪টি রেল কোচ।

এ নিয়ে প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদার সম্প্রতি বলেছেন, সময় এগোনো হয়েছে। ২০২০ সালের শেষদিকে প্রথম লটের ইঞ্জিন-কোচ এসে পৌঁছবে। অবশিষ্টগুলো আসবে ২০২১ সালে।

এদিকে প্যাকেজ-৫ ও ৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৭টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আগামী নভেম্বরে এর চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ প্যাকেজটির কারিগরি অংশের মূল্যায়ন চলছে। এরপর আর্থিক প্রস্তাবনা চাওয়া হবে। পরে তা মূল্যায়ন করা হবে। আর প্রতিটি স্তরে জাইকার অনুমোদন লাগবে। ফলে ওই প্যাকেজের চুক্তি হতে কমপক্ষে এক বছর লাগবে। এ প্যাকেজের সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছেÑ গত ১৩ জুলাই প্রি-কোয়ালিফায়েড বিডারদের অনুকূলে দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিড জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা আছে।

এ ছাড়া প্যাকেজ-২ হচ্ছে ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ। এর আওতায় মেট্রোরেলের ডিপো এলাকায় ভবন নির্মাণ করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে এর চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সই হয় মে মাসে। এ ছাড়া ডিপোর মাটি উন্নয়ন পিছিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় প্যাকেজও পিছিয়ে যেতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্যাকেজের বাস্তব কাজ শুরু হবে ১৩ সেপ্টেম্বর। শেষ হবে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। এর আওতায় ডিপোতে বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। যেমনÑ এক. স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড (বিরতিতে ট্রেন রাখার স্থান); দুই. ট্রেন মেরামত ও ওভারহলের মালামালের গুদামঘর; তিন. ট্রেন মেরামত ও ওভারহল স্থান; চার. প্রধান ওয়ার্কশপ; পাঁচ. অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার; ছয়. ট্রেন ইন্সপেকশন; সাত. জেনারেটর ও ইলেকট্রিক্যাল ভবন; আট. ট্রেন ওয়াশ স্থাপনা; নয়. ম্যানুয়াল ট্রেন ওয়াশিং; দশ. বহুতলবিশিষ্ট কার পার্কিং এবং এগার. গ্রিন স্পেস।

প্যাকেজ-৭ এর আওতায় মেট্রোরেলের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। গত বছরের ২৮ এপ্রিল এর বিড ডকুমেন্টের ওপর জাইকার সম্মতি পাওয়া যায়। এর পর গত বছরের ১৯ মে মেট্রোরেল কোম্পানির বোর্ডসভায় বিড ডকুমেন্ট অনুমোদিত হয়। গত বছরের ২৬ মে বিড আহ্বান করে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি দরপত্র খোলা হয়। একটি দরপত্র জমা পড়ে। বর্তমানে এর মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন। অথচ এ চুক্তি হওয়ার কথা ছিল গত মার্চে।

জানা গেছে, ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মেট্রোরেলে ১৬টি স্টেশন থাকবে। সেগুলো হচ্ছেÑ উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল। এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৩৮ মিনিট।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে