আনান কমিশন বাস্তবায়নে কমিটি মিয়ানমারের

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করেছে মিয়ানমার। প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। আগস্টে কফি আনানের নেতৃত্বাধীন রাখাইন কমিশন রাখাইনের পরিস্থিতি তদন্তের পর কিছু সুপারিশ করে।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তদন্তে গত বছর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি নিজেই কফি আনানকে ওই কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। এর আগেও সু চি তার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি অব রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি’ নামে ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘রোহিঙ্গা এলাকাগুলোয় এ কমিটি নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে সামাজিক সম্পর্কের বিষয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি তারা জাতিগত সংখ্যালঘু বসবাসকারীদের গ্রাম এবং উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে শিবিরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজ করবে।’

কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের জন্য মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘যদি স্থানীয় জনগণের বৈধ অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হয়, তবে তারা জঙ্গি সংগঠনগুলোয় যোগ দেওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়বে।’ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, ‘যাদের নাগরিকত্ব মঞ্জুর করা হয়নি তাদের মর্যাদা কী হবে তাও সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। অন্য সব দেশের মতো মিয়ানমারেও যারা নাগরিকত্ব না পেয়েও বসবাস করছে, তাদের একটি মর্যাদা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মিয়ানমারে বাস করছে ও কাজ করছে, তাদের অধিকারও সমুন্নত রাখা দরকার। যাদের নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়ে গেছে, তাদের জন্য নাগরিকত্বের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’

১৯৮২ সালের বিতর্কিত বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। এতে মিয়ানমারে বসবাসকারীদের ঈরঃরুবহ, অংংড়পরধঃব এবং ঘধঃঁৎধষরুবফ পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এমনকি দেশটির সরকার তাদের প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। ১৮২৩ সালের পর আগতদের অংংড়পরধঃব আর ১৯৮২ সালে নতুনভাবে দরখাস্তকারীদের ঘধঃঁৎধষরুবফ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে