ঈদে দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবারের ঈদুল আজহায় দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ৬৯৬ জন আহত হয়। সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২৭২টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৭৫৯ জন আহত হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৮ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৬৯৬ জন আহত হন। একই সময়ে নৌপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হন। এ সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন ৪৩ জন। মোট সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার ৩৯.১০ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা, ১২.৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩২.৬০ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১.৪০ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে, ৩.২০ শতাংশ গাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ও ১১.২০ শতাংশ অন্য কারণে ঘটেছে। যানবাহনের ৩৭ ভাগ বাস, ৩৫ ভাগ ট্রাক ও পিকআপ, ২৩ ভাগ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল, ৫ ভাগ অন্য যানবাহনের মাধ্যমে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত চার বছর যাবৎ বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এবারের ঈদযাত্রায় শঙ্কা দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। এতে করে অনেকে আগেই বাড়ি ফেরেন। ফলে ঘরমুখো যাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়- দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভাঙা ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তাঘাট; অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো; বিপজ্জনক ওভারটেকিং; যানজটে আটকে থাকা বাণিজ্যিক ট্রিপধারী পরিবহনগুলোকে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দ্রুত ফেরত আসার জন্য মালিক পক্ষের বারবার তাগাদা; পশুবাহী ট্রাক, ধীরগতির নছিমন-করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যটারিচালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশার সঙ্গে বাণিজ্যিক ট্রিপধারী দ্রুতগতির বাস ও মাইক্রোবাস, কার একই সঙ্গে চলাচল; টিনএজদের দ্রুত গতির মোটরসাইকেল; ফুটপাত দখলে থাকায় অথবা ফুটপাত না থাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াত এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

এজন্য ১০টি সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছেÑ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সেল গঠন; যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ; মহাসড়কে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা; মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট করা; সড়ক-মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করা; মানসম্মত ও নিরাপদ যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; নিরাপদ ও প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা; দেশের সড়ক-মহাসড়কে পথচারীবান্ধব ফুটপাত, জেব্রাক্রসিং, ওভারপাস, আন্ডারপাস গড়ে তোলা; ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা এবং মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ডা. হুমায়ন কবির প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে