পরোয়া নেই সু চির

  আমাদের সময় ডেস্ক

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময়ের গণতন্ত্রের মানসকন্যা তকমা পাওয়া বর্তমানে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অং সান সু চি বলেছেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে ভয় করে না। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের পর এই প্রথম মুখ খুললেন তিনি। গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে ৩০ মিনিটের ভাষণ দেন মিয়ানমারের নেত্রী। তার ভাষণে নানা বিষয় উঠে এলেও উপেক্ষিত থেকেছে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।

রাখাইন থেকে লাখ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়া বিষয়ে সু চি বলেন, মুসলমানরা কেন পালিয়ে যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। এ খবরে তিনি উদ্বিগ্ন। তার সরকার তদন্ত সাপেক্ষে এর কারণ অনুসন্ধান করবে।

তবে রাখাইনে সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানান তিনি। পুরো ভাষণে তিনি একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি।

এ প্রসঙ্গে কৌশলী সু চি বলেন, অধিকাংশ মুসলিম রাখাইন অঞ্চলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে বোঝা যায় সেখানে পরিস্থিতি খুব মারাত্মক নয়। তবে মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলে তিনি রাখাইনের সংকট সম্পর্কে বিশদ জানতে চান বলে জানান। নিজের সরকারের সাফাই গেয়ে সু চি বলেন, সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখের পর রাখাইনে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। তিনি বলেন, আমরা চাই না মিয়ানমার এমন একটি দেশ হোক যেটি হবে ধর্মীয় ও জাতিগতভাবে বিভাজিত।

বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা চলে আসা নিয়ে সু চি বলেন, অনেক মুসলমান বাংলাদেশে চলে যাওয়ার খবরে মিয়ানমার উদ্বিগ্ন। শরণার্থী হিসেবে যারা বাংলাদেশে গেছে যে কোনো সময় তাদের পরিচিতি নিশ্চিত করে তাদের পুনর্বাসনে প্রস্তুত মিয়ানমার। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে নব্বই দশকে হওয়া চুক্তি অনুসরণের কথা বলেন।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর বলেন, ‘কারো ঘাড়ে দায় চাপানো বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া মিয়ানমার সরকারের ইচ্ছা নয়।’ চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে সু চি ও তার সরকার প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাখাইনে মিয়ানমারের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণের ভয় করে না তার সরকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সশরীরে এসে সমস্যাগুলো দেখে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সব ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সু চি আরও বলেন, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেরও কাজ করবে তার সরকার।

মিয়ানমার নেত্রী বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরপরাধ বেসামরিক লোকজনের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য সব দিক বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। আইনের শাসনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নোবেলজয়ী সু চি বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী ঘটনা এবং আইনের শাসন অমান্য করাকে কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে।’

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু হওয়ার পর শত শত লোকের প্রাণহানি এবং দেশটি থেকে চার লাখ ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জাতিসংঘ মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর এমন দমন পীড়নকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে বর্ণনা করে। এদিকে সু চি দেশের এ সংকট নিরসনের কথা বলে নিউইয়র্কে এ সপ্তাহের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে