একই সুরে কথা বলবে আ.লীগ ও শরিকরা

প্রকাশ | ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:১৩

আলী আসিফ শাওন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে চলমান এ সংলাপে একই সুরে কথা বলতে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে দুটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের এক বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জোটনেতাদের মধ্যে দিলীপ বড়–য়া, ফজলে হোসেন বাদশা, শিরিন আখতার, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, নাজমুল হক প্রধান, ডা. শাহাদাত হোসেন, আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তরিকত ফেডারেশনের বক্তব্যের সূত্র ধরে বৈঠকে আলোচনার সূত্রপাত হয়। নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল তরিকত ফেডারেশন বুধবার সংলাপে অংশ নেয়। ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে সংলাপ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী। তিনি নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন চান। পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান। বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বৈঠকে উপস্থিত তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আউয়াল বলেন, আমরা লিখিত যে প্রস্তাবগুলো নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি, সেখানে এগুলো নেই। আমাদের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমের প্রশ্নে কথাগুলো বলে ফেলেছেন।

ওই সময় উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতারা শরিকদের উদ্দেশে জানান, মোটাদাগে আমাদের একটা প্রস্তাব থাকবে। সেটা হলো সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু বলার দরকার নেই। আপনারা বলতে পারেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে তা হলে কিছু জায়গায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে পারে। এ দুটো বিষয় ঠিক রেখে দলীয় অন্য দাবি-দাওয়া তুলতে পারবেন শরিক দলের নেতারা। বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলের নেতারাও এ প্রস্তাবে একমত পোষণ করেন।

এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার বলেন, আমাদের জোটের দলগুলোর কথার মধ্যে যেন সামঞ্জস্য থাকে, না হলে বিরোধী পক্ষরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। বৈঠকে প্রায় অভিন্ন কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম, আহমদ হোসেন, মৃণাল কান্তি দাস, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, ডা. শাহাদাত হোসেন, এসকে শিকদার, এজাজুল হক মুক্তা, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

এর আগে গত বুধবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের নেতৃত্বে ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় কাছাকাছি সময়ে ঢাকা সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সম্মানে আয়োজিত একটি নৈশভোজ ছিল। নৈশভোজে যোগ দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অনেক নেতা ধানম-ির বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি। এমনকি বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যেও নৈশভোজে যাওয়ার তাড়া ছিল। সে কারণে ইসির সংলাপে আওয়ামী লীগ কী বলবেÑ সে বিষয়ে বিস্তারিত নয়, অল্পবিস্তর আলোচনা হয় ধানম-ির বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত দু-একজন নেতা আলাপকালে আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, মোটাদাগে আলাপ হয়েছে, সংবিধানের মধ্যে থেকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাইবে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া সীমানা পুনর্বণ্টন, আরপিও সংশোধন বা অন্যান্য আইনি বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব দেবে না দলটি। নতুন বিষয়ের অবতারণা করে নির্বাচনে এক বছর আগে নতুন কোনো বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে নারাজ আওয়ামী লীগের নেতারা। বৈঠকে জানানো হয়, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর। আওয়ামী লীগের ওই বৈঠকের সারাংশটুকুই জানানো হয়েছে ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের।

এদিকে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন সংলাপের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন। সেখানে আমাদের জোটের অংশীদার বিভিন্ন দলও অংশ নেবে। তবে আমাদের একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা হলোÑ নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারে অধীনে। এ প্রস্তাবটি সবাই উত্থাপন করবেন।

প্রধান বিচারপতির বিষয়ে স্বাস্থমন্ত্রী নাসিম বলেন, প্রধান বিচারপতির পদটি অত্যন্ত গৌরাবান্বিত ও সম্মানজনক পদ। আমরা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সম্মান করি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তিনি এ পদে এসে পদটিকে বারবার বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। একবার গ্রিক মূর্তি স্থাপন করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এর পর ষোড়শ সংশোধনী রায় বাতিল করে এবং পর্যবেক্ষণ দিয়ে গোটা জাতিকে বিক্ষুব্ধ করেছেন। এখন অসুস্থ হয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও বলেন, এখনো আমরা বিশ্বাস করি, তিনি তার সম্মান নিয়ে অবসরে যাবেন।