প্রধানমন্ত্রী ফিরছেন আজ, বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন আজ শনিবার। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানাবেন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ও মিয়ানমারে তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের বিষয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তায় থাকবে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ (উত্তর-দক্ষিণ), কেন্দ্রীয় ১৪ দল, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে একাধিক সভা করে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে।

সকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে ভিপিআইপি লাউঞ্জে এলে সংবর্ধনা দেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর ভিআইপি রোড (কুড়িল বিশ্বরোড-বনানী-মহাখালী-জাহাঙ্গীর গেট-বিজয় সরণি-গণভবন) দিয়ে যাবেন। সংবর্ধনা সফল করতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত কয়েকটি ভাগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা রাস্তার দুপাশে থাকবেন। তবে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেই এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে আগেই আশ্বস্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সংবর্ধনার প্রস্তুতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। দলের পক্ষ থেকে আমরা ইতোমধ্যেই সব সহযোগী সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেছি যে, তারা যেন রাস্তার দুপাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকেই শুভেচ্ছা জানান, কেউ যাতে রাস্তার মধ্যে না দাঁড়ান এবং এতে যানজট তৈরি না হয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের অগ্রগতি থামাতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

এদিকে যুক্তরাজ্যে নিজের হোটেল কক্ষে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো সমস্যা দেখে ভয় পায় না। মিয়ানমার থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেওয়া লাখ লাখ লোক বাংলাদেশে চলে আসা সত্ত্বেও এ দেশ এগিয়ে যাবে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার একদিন আগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, নোবেল সেটি কোনো বিষয় নয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই বড় পরিচয়। মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে। ফলে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা ভয় পাই না। বরং সমস্যা মোকাবিলা করে আরও এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের একজন সিনিয়র প্রতিনিধির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে নেপিদোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ সব সময় মানবতায় বিশ্বাস করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হওয়া এসব লোকজনকে আশ্রয় দিতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে তাদের এই চরম দুঃসময়ে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে সাত লাখ লোককেও খাওয়াতে পারব।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর নিউউয়র্কে পৌঁছান। ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ছাড়াও বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ৫ দফা প্রস্তাব বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সাধারণ অধিবেশন শেষে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ায় যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৫ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে তার পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার হয়। সেখান থেকে শেখ হাসিনা গত ৩ অক্টোবর লন্ডনে যান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে