চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে হত্যা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস ওরফে রুবেলকে (২৫) বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় এ হত্যাকা- ঘটে।

ফেসবুকে লেখা ও তর্কের জেরে সুদীপ্তকে খুন করা হয়েছে বলে ছাত্রলীগ নেতারা দাবি করেছেন। আর রাজনীতি করার কারণেই সুদীপ্তকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করেন তার বাবা বাবুল বিশ্বাস। এই ঘটনার প্রতিবাদে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গতকাল বিকালে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ছাড়া তারা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাশে প্রবর্তক মোড়েও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

সুদীপ্তের বাড়ি সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায়। নগরীর টাইগার পাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক বাবুল বিশ্বাসের দুই ছেলের মধ্যে তিনি বড়। তিনি সরকারি সিটি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স পাস করেছেন। মহানগর ছাত্রলীগের সহসাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি এই হত্যাকা-ের জন্য সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতাকে দায়ী করেছেন। তবে তাদের নাম বলতে চাননি। রনি বলেন, এই দুই নেতা কে কত বেশি বড়, তা ফেসবুকে জাহির করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি হয়। ফেসবুকের ওই লেখাকে কেন্দ্র করে সুদীপ্তকে প্রাণ দিতে হলো।

সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার জানান, সকাল ৮টার দিকে সুদীপ্তকে কয়েক যুবক বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্বজনরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কে বা কারা কী কারণে এ হত্যাকা- ঘটাতে পারে এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু জানাতে পারেননি ওসি।

হাসপাতালে সুদীপ্তের মা বলেন, সকালে সে ঘুমাচ্ছিল। সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বেশ কয়েক যুবক পাশের বাসার এক নারীকে সুদীপ্তকে ডেকে দিতে বলে। পরে তাকে ঘরের বাইরে বসা অবস্থায় খালি গায়ে পাওয়া যায়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

স্থানীয়রা জানান, সকালে সাত থেকে আটটি সিএনজি অটোরিকশা করে বেশ কয়েক যুবক দক্ষিণ নালাপাড়া মসজিদের কাছে নেমে হেঁটে সুদীপ্তের বাসার দিকে যায়। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজও শোনা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সুদীপ্তকে চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ আফতাব উদ্দিন বলেন, সকাল ১০টার দিকে সুদীপ্তকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত দেখেছি। পায়ের দিকেও ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

সুদীপ্তের বাবা বাবুল বিশ্বাস বলেন, তাকে রাজনীতি না করার জন্য অনেকবার বলেছি। সে কারো কথা শোনেনি। এই রাজনীতিই তার জন্য কাল হলোÑ আক্ষেপ করে বলেন বাবুল বিশ্বাস।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, সুদীপ্তকে মারার জন্য লালখান বাজার থেকেই আটটি অটোরিকশাযোগে দুর্বৃত্তরা নালাপাড়া যায়। তারাই লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে পিটায় সুদীপ্তকে।

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি আমাদের সময়কে বলেন, আমরা চাই এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করুক। কারণ যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তারা মুহূর্তেই সুদীপ্তর বাবাকে গিলে ফেলতে সক্ষম।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আশির দশকে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে মহিউদ্দিন ও আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল গঠিত হলে এ কলেজটি তাদের ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। চট্টগ্রামের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এই কলেজে ছাত্রলীগের কর্মকা- কিছুটা গোছানো। তবে কোন্দল কখনো পিছু ছাড়েনি। এলাকার আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের এ কোন্দলে আশির দশকে খুন হন সিটি কলেজ ছাত্রলীগের জিএস কামাল উদ্দিন। ১৯৯৭ সালে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা সিনাউল হক আশিক। ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ নগরীর টাইগার পাস মোড়ে ব্রাশফায়ারে খুন করা হয় সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস আমিনুল ইসলাম স্বপনকে। ওই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি শহীদুল ইসলাম শামীম ও খোকন চন্দ্র তাতী চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে