বিবিসির খবর

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বেশি কিছু করবে না ভারত

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। সংকট নিরসনে ভারতের ভূমিকা আপাতত ত্রাণ পাঠানো আর ‘পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে না ভারত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয় শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ভারত তার এই মনোভাবের কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসি।

গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামা শুরু হওয়ার পর দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে এই প্রথম বৈঠক হলো।

বাংলাদেশ চাচ্ছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টায় ভারত আরও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুক। কিন্তু ভারতের নিজস্ব নানা বাধ্যবাধকতার কারণে সে কাজটা মোটেও সহজ হচ্ছে না। দুদেশের পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেনি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত দুটি; প্রথমত এ মাসের শেষদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর, আর দ্বিতীয়টি রোহিঙ্গা সংকট।

বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে রোহিঙ্গা সংকটে তারা ভারতের কাছ থেকে আরও ইতিবাচক ভূমিকা আশা করে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত যেন এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করে। সে ব্যাপারে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মিললেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা এ ব্যাপারে মূলত তিনটি বিষয় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছেন।

এক. মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়েই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীÑ দুজনের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক খুব ভালো। ফলে এক দেশের পক্ষ নিয়ে অন্য দেশের প্রতি ভারত কিছুতেই আক্রমণাত্মক হতে পারবে না।

দুই. এই সংকটের ‘মানবিক দিক’ খুঁজে বের করতে ভারত তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবেই শুরু হয়েছে ‘অপারেশন ইনসানিয়ত’। এই অপারেশনের আওতায় দিন কয়েক আগে প্রচুর পরিমাণ ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামে উড়ে গিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্পেশাল এয়ারক্র্যাফট। এরপর সমুদ্রপথেও পাঠানো হয়েছে হাজার টনেরও বেশি রসদপত্র। সেই ত্রাণবাহী জাহাজও বাংলাদেশে পৌঁছতে চলেছে।

তৃতীয়ত. ভারত বাংলাদেশকে এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ভারত একা কিছুই করতে পারবে না। কারণ এর জন্য চাই আন্তর্জাতিক স্তরে একটা সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রয়াস। এই কারণেই বৈঠকে বাংলাদেশকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে যারা রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারকে জোরালো সমর্থন জানাচ্ছেÑ সেই চীন বা রাশিয়ার সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলতে, যাতে তারাও মিয়ানমারের ওপর তাদের প্রভাবটাকে কাজে লাগাতে পারে। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারতের ভূমিকা আপাতত এই ত্রাণ পাঠানো আর ‘পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে