অভ্যুত্থান-শঙ্কায় জাতিসংঘে যাননি

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেননি অং সান সু চি। তখন জোর ধারণা করা হচ্ছিল, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে বিশ্বনেতাদের সমালোচনার মুখে পড়বেন বলে নিউইয়র্কের ওই অধিবেশনে যাননি তিনি। কিন্তু গত সোমবার ‘ইরাবতি’তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনা নয়, বরং নিজ দেশেই অনেক চাপের মুখে ছিলেন সু চি। ওই সময় রাখাইন রাজ্যে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা ছিল। তাই দেশ ছাড়েননি তিনি। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এখনো দেশটিতে গুঞ্জন চলছে রাখাইন রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারির।

মিয়ানমার থেকে নির্বাসিত হয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া সাংবাদিকদের দ্বারা পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ইরাবতির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে সহিংসতা শুরুর সময় থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট উ তিন কিয়াও ব্যাংককে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। দেশটির জেনারেলরা রাখাইনে ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময় রাজ্যটিতে জরুরি আইন জারি করতে চেয়েছিলেন। যেহেতু প্রেসিডেন্ট দেশে নেই, সেহেতু নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে সু চি যোগ দিতে গেলে দেশের দায়িত্ব পেতেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ মিন্ট সুই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থা জারি করতে পারত।

অন্যদিকে রাখাইনে সংকট শুরুর প্রথম দিন থেকেই জরুরি অবস্থা জারির বিরোধিতা করে আসছিলেন সু চি।

বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ মিন্ট সুই দেশটির সাবেক শীর্ষ জেনারেল এবং থেইন সেইন প্রশাসনের সময় ইয়াঙ্গুনের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। সাবেক সেনাশাসক জেনারেল থান শয়ের আমলে সেনাবাহিনীর কট্টরপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুই। তাই তাকে নিয়ে বেশি শঙ্কায় ছিলেন সু চি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আরেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিওকে জাতিসংঘে পাঠান সু চি। আর নিজে দেশেই থেকে যান এবং ভাষণ দেন কূটনীতিকদের উদ্দেশে।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট চিকিৎসা শেষে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরে এলে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেন সু চি। এর বদলে যান ব্রুনাইয়ে। সেখানে তিনি বেশ কয়েক এশীয় রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনÑ যারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সমালোচনা করে আসছিলেন।

ইরাবতির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধান অনুসারে দেশটির সেনাবাহিনী কিছু শর্তসাপেক্ষে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে। তবে সেনাপ্রধানের একক ক্ষমতা থাকলেও ৬ মাস বা এর বেশি সময়ের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে অবশ্যই তাকে দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনডিএসসি) অনুমোদন নিতে হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে