সব সড়ক নিরাপদ করতে হবে

  তাওহীদুল ইসলাম

২২ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই যুগ আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী। এরপর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গড়ে তোলেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামের সংগঠন। সংগঠনটির ব্যানারেও নানা কর্মসূচি যেমন পালিত হচ্ছে তেমনি ইলিয়াস কাঞ্চন স্বউদ্যোগেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার দাবি করা তারিখকেই নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এ অর্জন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গতকাল আমাদের সময়ের সঙ্গে কথা বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

আমাদের সময় : সড়ক নিরাপদ করতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া দরকার কোন ক্ষেত্রে?

ইলিয়াস কাঞ্চন : সড়ককে নিরাপদ করতে অনেক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কঠোর আইন যেমন দরকার তেমনি এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় চালকরাই কেবল দায়ী নন। সচেতন হতে হবে সবাইকে। ওভারটেক, ওভারস্পিড যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তেমনি ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দরকার চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ। মোটিভেশন জরুরি।

আমাদের সময় : দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করছেন। আপনাদের দাবির ফসল জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

ইলিয়াস কাঞ্চন : সড়ক নিরাপত্তায় কাজ চলছে অনেক দিন ধরেই। ইতোমধ্যে অনেক পরিবর্তন ও উন্নতি হয়েছে। চালক-মালিকদের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে। এখন মালিকরা, চালকদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠাচ্ছেন। আমাদের কাছে পাঠাচ্ছে মানসিক প্রশিক্ষণের জন্য। সাধারণ মানুষও অনেক সচেতন হয়েছে। ঢাকায় এখন প্রায় শতভাগ মোটরসাইকেল চালক হেলমেট পরেন। মৃত্যু ও দুর্ঘটনা ১০ বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। আগে মালিক-চালকরা সড়কের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানতেন না। তবে ক্ষমতাধরদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

আমাদের সময় : প্রস্তাবিত সড়ক আইন নিয়ে কিছু বলুন।

ইলিয়াস কাঞ্চন : সড়ক আইনটিতে কিছু ভালো দিক রয়েছে। তবে আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি। যেমন আইনটির নাম বলেছিলাম মোটর যান ও সুরক্ষা আইন। ভারতে সম্প্রতি পাস হওয়া আইনটিরও প্রায় একই রকম নাম। এতে করে মোটরযানের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেত। কিন্তু তা করা হয়নি। আইনের কিছু অসঙ্গতিও আছে। রাস্তার নির্মাণত্রুটিতে ইঞ্জিনিয়ারদের বিভাগীয় শাস্তির কথা বলা আছে। এতে আমার আপত্তি রয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম, অথচ নির্মাণত্রুটির কারণে প্রকৌশলীকে বদলি জাতীয় বিভাগীয় শাস্তির ওপর ছেড়ে দিতে হবে? এরকম আরও কিছু বড় অসঙ্গতি রয়ে গেছে।

আমাদের সময় : আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর প্রসঙ্গে অভিমত কী?

ইলিয়াস কাঞ্চন : আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্প্রতি সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনছে। কিন্তু এটা ধরে রাখতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে নিরাপদ সড়কের শিক্ষা দিতে হবে। এখন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত, সড়কের নিয়মকানুন পড়ানো হয়। একে ™^াদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করতে হবে।

আমাদের সময় : দুর্ঘটনা রোধে সড়ক-মহাসড়কের ব্যাপারে করণীয়?

ইলিয়াস কাঞ্চন : প্রথমেই মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা কমাতে হবে। উল্টোমুখী গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। এ জন্য সব মহাসড়কে চার লেনে উন্নীত করে, মাঝ বরবার ডিভাইডার বসাতে হবে। এতে যান চলাচল একমুখী হবে। জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি মানুষকে পাশে নিয়ে উদ্যোগ নেন, তা হলে উল্টো গাড়ি চলা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, সড়ক দখল সব বন্ধ হয়ে যাবে। সড়ক হবে নিরাপদ।

আমাদের সময় : এ পর্যন্ত নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি কী?

ইলিয়াস কাঞ্চন : ১৪৪টি ব্ল্যাক স্পট ছিল মহাসড়কে। সেগুলো দূর হয়েছে। মহাসড়কে প্রতি ৫০ কিলোমিটার অন্তর রেসকিউ ও ট্রমা সেন্টার করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে। কাউন্সিল চার বছর আগে ৮৩টি সুপারিশ করেছিল। কয়টি কার্যকর হয়েছে। মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করছে, কিন্তু কার্যকর হচ্ছে না। তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে