আয়ের উৎস খেজুরপাতা

  এইচ.এম. জোবায়ের হোসাইন, ত্রিশাল

২২ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আফাজ উদ্দীনসহ ১৫টি পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চলে খেজুরপাতার ঝুলঝাড়– বিক্রি করে। এসব পরিবার প্রতিদিন তৈরি করছে ৩ থেকে ৪ হাজার ঝাড়–। তাদের তৈরি ঝাড়– সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

বিয়ারা দক্ষিণপাড়া গ্রামের ১৫ পরিবার এ হস্তশিল্পটি আঁকড়ে ধরে আছে উপার্জনের উৎস হিসেবে। গ্রামের সব বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটায় ঝাড়– তৈরির কাজে। নতুনরা ছাড়াও ওই পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ পূর্বপুরুষদের এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে জীবন সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে থাকেন।

ঝুলঝাড়ু তৈরির প্রধান উপকরণ হচ্ছে খেজুরপাতা, বাঁশ, বেত, লতা অথবা প্লাস্টিক ফিতা, পিন-তারকাঁটা, সুতলি ইত্যাদি। আগেকার দিনে খেজুর গাছ পরিষ্কার করে দিলেই ফ্রি খেজুরপাতার ডাল পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আড়াই টাকা দিয়ে একটি ডাল কিনতে হয়। প্রথমে খেজুরপাতা শুকিয়ে গজাল বা সলা দিয়ে চিকন করে নিতে হয়। দা দিয়ে বাঁশ ছেঁটে রোদে শুকিয়ে বানানো হয় হাতল। চিকন করা খেজুরপাতা হাতলের চারপাশে প্লাস্টিকের ফিতা ও সুতলি দিয়ে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় ঝুলঝাড়–। পরিবহন খরচ ও উপকরণসহ প্রতিটি ঝাড়– তৈরিতে খরচ পড়ে ৫ টাকা। এসব ঝাড়– প্রতিটি এক টাকা লাভে পাইকারদের কাছে ৬ টাকায় বিক্রি করা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিয়ারা জয়মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আসমা খাতুন মা সুফিয়া খাতুনকে ঝাড়– তৈরির কাজে সহযোগিতা করছে। পড়াশুনার ফাঁকে অবসর সময়ে সে বাবা-মাকে সাহায্য করে। আসমা জানায়, স্কুল বন্ধ থাকলে বা অবসর সময় পেলেই ঝাড়– তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটায় সে। সারাদিন কাজ করলে ৪০০ থেকে ৫০০টি ঝাড়–র ফিতা বাঁধতে পারে সে। সে আরও জানায়, টানাটানির সংসারে ঝাড়– তৈরিসহ সব কাজে বাবা-মাকে সহযোগিতা করতে খুব ভালো লাগে তার।

আসমার বাবা আফাজ উদ্দিন জানান, ‘লেখাপড়া করি নাই, বাপ-দাদার কাছ থেকে ঝাড়– তৈরির কাজ শিখে ছোটকাল থেকেই এ পেশায় জড়িত। ঝাড়–র ব্যবসা দিয়েই সংসার চালাই। মেয়েটা পড়াশোনা করলেও অবসর সময়ে সাহায্য করে। আমার ছেলেরাও একই কাজ করে। কাঁচামালের দাম বেশি থাকায় শ্রমিকের মজুরি দিয়ে লাভের অংশ খুব কম থাকে।

ঝাড়– তৈরিকারক হবিকুল ইসলাম জানান, ‘বাপদাদার আমল থেকেই এ কাজ শিখেছি। বর্তমানে ঝাড়– তৈরি আমার একমাত্র পেশা। এ ব্যবসা করে সংসার ও চার মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চলে। আল্লাহর রহমতে কিছু আয়ও থাকে। নিজের লেখাপড়া হয়নি, মেয়েদের লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে