আর্থিক লেনদেনে সতর্কতার নির্দেশ

  রুমানা রাখি

২২ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে জঙ্গি অর্থায়ন ঠেকাতে আর্থিক খাতের লেনদেনের ওপর কড়াকড়ি এসেছে। ব্যাংকিং খাতে যাতে বেআইনি কোনো লেনদেন হতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সব ধরনের কাগজপত্র সংরক্ষণ করার নির্দেশনাও রয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থাও কঠোরভাবে তদারকির আওতায় আনতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব নির্দেশনা দেয়।

জানা গেছে, দেশে জঙ্গি অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান ও তা প্রতিরোধে সরকারের উচ্চপর্যায়ে গঠিত ট্রাস্কফোর্সের বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ নির্দেশনা এসেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য দেখানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক খাতের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়ন লেনদেন হচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে তদন্ত করে ৫০টি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো নিয়ে তদন্ত করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে এখনো অনেক বেনামি হিসাবের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থের লেনদেন হচ্ছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিদেশ থেকে দেশে অর্থ আসার পর এক পর্যায়ে তা আর্থিক খাতে ঢুকছে। পরে তা নিরাপদে জঙ্গিদের হাতে চলে যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, অ্যান্টিমানিলন্ডারিংয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন আছে। এ আইন মেনেই অর্থের লেনদেন হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থপাচারের কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করে যে আয়ের কথা বলা হচ্ছে, তা শুধু দেশে আসছে; দেশের বাইরে এ অর্থ যাচ্ছে না। সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একটা আলোচনায় বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ যাচ্ছে। সে সোর্সগুলো খুঁজে দেখার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের কাগজপত্র জমা নিতে এবং তা সংরক্ষণ করতে হবে। একইভাবে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকের মতো সব ধরনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিতে হবে। এগুলো এজেন্টদের অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে। যথাযথ তদন্তকারী সংস্থা চাইলে তা দেখাতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এজেন্টদের নির্ধারিত অফিস থাকতে হবে। আর্থিক লেনেদেন নির্ধারিত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ত এমন সন্দেহভাজন এনজিওগুলোকে নিয়মিত মনিটরিং করে যথাযথ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এনজিওর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়ন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

সূত্র জানায়, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অসঙ্গতি দেখা দিলে বা অনুরূপ কোনো হিসাবের খোঁজ পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অবহিত করবে।

অবৈধ ব্যাংকিং লেনদেনের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সতর্ক নজরদারি বজায় রাখতে হবে।

সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, আদান প্রদান, চলাচল ও স্থানান্তর বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং, বিকাশসহ সব অনলাইন মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কিনা তা নজরদারিতে রাখতে হবে।

জঙ্গি অর্থায়ন বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, জঙ্গিদের মূল চালিকা শক্তির অন্যতম অর্থ। জঙ্গিদের অর্থের উৎস বন্ধ করতে পারলে তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। কাজেই জঙ্গিবাদে অর্থায়ন বন্ধের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে