সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে জনগণের পাশে থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করতে যা যা প্রয়োজন সরকার তা করেছে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে গতকাল বিকালে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় দূতাবাসগুলোর বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতাসহ নানাবিধ কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে একটি সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র কিছুদিন আগে আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি।

জাতিসংঘে শান্তি মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বহিনীর গৌরবান্বিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিম-লে, জাতিসংঘ শান্তি মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আজ প্রশংসিত। আমরা চাই, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও এগিয়ে যাবে, আরও উন্নত হবে, আরও সুন্দর হবে। সেদিকে লক্ষ রেখে আমরা ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক সাবমেরিন থেকে শুরু করে সবই আমরা করার চেষ্টা করেছি।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এই সমুদ্র সম্পদ আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কাজেও লাগবে। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা চুক্তিও আওয়ামী লীগের শাসনামলে স্বাক্ষর করা হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেÑ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। বাজেট ৮ গুণ বৃদ্ধি করেছি। উন্নয়ন প্রকল্পে ৯৮ ভাগ ব্যায় নিজেদের অর্থায়নে করতে পেরেছি। নিজেদের সম্পদ দিয়েই যে দেশকে উন্নত করতে পারি, সেটি আমরা প্রমাণ করেছি।

ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা স্থলে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং চাচক্রে মিলিত হন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান সস্ত্রীক তাকে স্বাগত জানান।

সংবর্ধনায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।

এর আগে সকালে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পৃথক পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছলে তাদের স্বাগত জানান তিন বাহিনী প্রধানরা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার নিজ-নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীপ্রধান, নৌবাহিনীপ্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সকালে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান। প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি তাদের হাতে সম্মানী-চেক এবং উপহার হিসেবে শাল ও মোবাইল ট্যাব তুলে দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ১০ সেনা, ১ নৌ এবং ১ বিমানবাহিনী সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের শান্তিকালীন পদকে এবং ১০ সেনা, ২ নৌ এবং ২ বিমানবাহিনী সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের অসামান্য সেবা পদকে ভূষিত করেন। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন।

৭ বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়সহ প্রায় ১০১ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীরা সংবর্ধনায় যোগ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে চাচক্রে মিলিত হন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে অন্যান্য কর্মসূচি

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনীপ্রধান ২৬ নভেম্বর, নৌবাহিনীপ্রধান ২১ নভেম্বর এবং বিমানবাহিনীর প্রধান ২২ নভেম্বর নিজ-নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সদস্য এবং তাদের পরিবারের সম্মানার্থে পৃথক-পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করবেন।

দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌজাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং অপরাহ্ন/সন্ধ্যায় বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা ও রাজেন্দ্রপুর (গাজীপুরসহ) সেনানিবাস/ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, বরিশাল ও চাঁদপুরে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজগুলো ২১ নভেম্বর বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় বলে জানায় আইএসপিআর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে