উন্নয়ন ও দুর্নীতি যমজ ভাই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, আমরা অনেক বড় দুর্নীতবাজের কাছে যেতে পারিনি। দুদক জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে এই যে পারিনি, এটা স্বীকার করার সাহস আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও দুর্নীতি যমজ ভাই। এ উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতির গতিকে টেনে ধরাই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ।

দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন, সচিব শামসুল আরেফিন, দুদকের দুই কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এএফএম আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

উন্নয়ন ও দুর্নীতিকে ‘যমজ ভাই’ উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, রেগুলেটরি ফ্রেইম ওয়ার্কগুলো (নিয়ন্ত্রক কাঠামো) যদি ঠিক থাকে, তা হলে উন্নয়ন ঠিকই হবে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাবে। তা হলে জনগণের উন্নয়নের জন্য যে অর্থনৈতিক উন্নতি দরকার, সেটি করা সম্ভব হবে। সম্পদের অসমতা থাকলেও আমরা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছি। এ উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতির গতিকে টেনে ধরাই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। দুদক জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি বলেও স্বীকার করেন চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা যদি না থাকে তা হলে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি যে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারিনি। এ সময় তিনি নিরপরাধ জনগণকে হয়রানি না করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুদক আইন-২০০০ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে। তবে দুদক আইন ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর একজন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনারের যোগদানের মাধ্যমে দুদক প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে দুই কর্মকর্তার যোগদানের দিনকেই দুদক দিবস হিসেবে ধরা হয়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেগুনবাগিচায় দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও নিজস্ব পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্তকরণ, বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানোসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

আলোচনাসভায় দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার লক্ষ্যে তাদের দুর্নীতিবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনের ছয় বিভাগীয় কার্যালয় এবং ২২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে