‘আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মেয়ে আপনার নাতনির নামও সোফিয়া’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘হ্যালো সোফিয়া, কেমন আছ?’ ‘ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি ভালো আছি। আমি গর্বিত। আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া দারুণ ব্যাপার।’ এ কথোপকথন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচিত রোবট সোফিয়ার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক মেগা ইভেন্ট ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর এবারের আয়োজনের বড় আকর্ষণ ছিল এই যন্ত্রমানবী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করেন। বক্তৃতা পর্ব শেষে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবটিক্সের সমন্বয়ে গড়া রোবট সোফিয়ার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ট্যাব চেপে তিনি মেলার উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব থেকে আসা সোফিয়ার কাছে জানতে চান, ‘তুমি আমাকে কীভাবে চিনলে?’ জবাবে বিশ্বের প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া এই রোবট বলে, ‘আমি জানি, আপনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি। আপনার নাতনির নামও সোফিয়া।’ প্রধানমন্ত্রী তখন উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জানেন, জয়ের (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়) মেয়ের নাম সোফিয়া।’ হলুদ-সাদা রঙের জামদানির পোশাক পরা সোফিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইংরেজিতে কথোপকথন চলে।

যার আদলে সোফিয়াকে বানানো হয়েছে সেই বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নও বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হয়ে বাংলাদেশে এসে প্রায় এক সপ্তাহ ছিলেন।

সোফিয়াকে দেখতে উপচেপড়া ভিড় : বাংলাদেশে এসে হাজার হাজার দর্শনার্থী তরুণ-তরুণীর সামনে জামদানির পোশাক পরে এসে রোবট সোফিয়া জানালো এ দেশ বিস্ময়কর এবং সুন্দর। আর বাংলাদেশের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়।

দুদিন আগে হংকং থেকে ঢাকায় এসে দর্শকদের সামনে হাজির হয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছে রোবট সোফিয়া। দর্শকদের উচ্ছ্বাসে নিজেও খুশি এই যান্ত্রিক মানব। তবে দর্শকদের চিৎকারে কিছুটা সমস্যাতেও পড়ে সোফিয়া।

মেলার শুরুর দিন বিকালে বিআইসির হল অব ফেমে বুধবার দর্শকদের সামনে কথার ফুলঝুরি নিয়ে হাজির হন সোফিয়া।

‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানে মঞ্চের ওপর একটি ফ্রেমে এনে বসানো হয় সোফিয়াকে। বসানোর পর পরই চোখ মেলে মাথা নেড়ে প্রায় জীবন্ত হয়ে ওঠে সোফিয়া। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে তীব্র শোরগোলে তা বেশি সময় চালিয়ে নেওয়া যায়নি। টেক টক উইথ সোফিয়া সেশনটি দুই ঘণ্টা হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪০ মিনিটের মতো হয়েছে। সেশনে ২০০০ দর্শনার্থী প্রবেশের কথা থাকলেও তা পাঁচ হাজারের মতো ছিল।

একে একে সোফিয়ার কাছে প্রশ্ন করেন সঞ্চালক। সম্ভাষণে সোফিয়া বলে, হ্যালো বাংলাদেশ। ওয়ান্ডারফুল কান্ট্রি বাংলাদেশ।

সাদা রঙের হাতায় হলুদ রঙের একটি জামা পরে হাজির হয় সোফিয়া। তার মাথার পেছনের অংশে যন্ত্রাংশ থেকে ছোট বাতি জ্বলছিল। সোফিয়ার কাছে প্রশ্ন ছিল তুমি কি এই পোশাকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানো? উত্তরে সোফিয়ার জবাব, বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং বিখ্যাত ব্র্যান্ড জামদানি। সম্ভাবনাময় দেশ।

সোফিয়াকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এর নির্মাতা ডেভিড হ্যান্স বলেন, ওপেন সোর্সে আছে সোফিয়ার সফটওয়্যার। এটা কাজে লাগিয়ে যে কেউ রোবট বানাতে পারে।

নির্মাতা ডেভিড হ্যান্সের উপস্থিতিতে তার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় সোফিয়ার কাছে। এ সময় ডেভিড সম্পর্কে কথা বলে সোফিয়া।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট কীভাবে পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারেÑ সে প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে সোফিয়া। সে জানায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় রোবট সোফিয়া বিমানে করে ঢাকা আসে দুদিন আগে। গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা অংশীদার সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী সোফিয়াকে দুটি ক্রেস্ট প্রদান করেন।

আমি প্রথম কিন্তু শেষ না : সোশ্যাল রোবট হিসেবে সোফিয়া প্রথম, কিন্তু শেষ রোবট নয়। এমন আরও সোশ্যাল রোবট বিশ্বে তৈরি হবে বলে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছে সোফিয়া। এর পর সোফিয়াকে প্রশ্ন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বাংলাদেশ চাইলে সোশ্যাল রোবট তৈরি করতে পারবে কিনা? জবাবে সোফিয়া বলে, বাংলাদেশের ডেভেলপাররা চাইলেই আমার মতো রোবট তৈরি করতে পারবেন। কারণ এখন এগুলো তৈরি করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অনেক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও জানায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে