তিনটিতে পরিববর্তন হতে পারে বিএনপির প্রার্থী

  নজরুল ইসলাম

১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ আগেই চূড়ান্ত করে রাখতে চাইছে বিএনপি। এর মূল উদ্দেশ্যÑ নির্বাচনের সময় বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে যেন অহেতুক ঝামেলায় পড়তে না হয়। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, গতবারের বিজয়ী গাজীপুর ও বরিশাল মেয়রসহ অন্তত তিনজনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

নির্বাচনের এখনো কয়েক মাস দেরি থাকলেও মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব-কোন্দল। এদিকে জামায়াতও রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী দিতে চায়। এর মধ্য দিয়ে এসব সিটিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিএনপির কাছ থেকে বেশি ছাড় পাওয়ার আশা করছে জামায়াত।

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এবার বরিশাল ও গাজীপুরে নতুন মেয়রপ্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। রাজশাহী ও সিলেটের আগের মেয়র প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেই। খুলনার মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলেও দলীয় নেতাকর্মীদের যোগাযোগ কম থাকায় দল তাকে নিয়ে ভাবছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে ক্ষমতাসীনদের ওপর মানুষ খুবই বিরক্ত। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি যাকে প্রার্থী দেবে তারাই নির্বাচিত হবেন। তার পরও এমন মেয়রপ্রার্থী দেওয়া হবে, যাদের নেতাকর্মী ও সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর প্রথম সভা থেকে করপোরেশনের মেয়াদ শুরু হয়। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে যে কোনো দিন ভোট গ্রহণ করা যায়। এ হিসেবে আগামী বছরের ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিলেট, ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে রাজশাহী, ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল, ৩০ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা এবং ৮ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের সুসম্পর্ক না রাখাসহ নানা অভিযোগে আগামী সিটি নির্বাচনে বরিশালের মেয়রপ্রার্থী পরিবর্তন করতে চায় বিএনপি। তবে বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বরিশালে মেয়রপ্রার্থী পরিবর্তন হলে সাবেক মেয়র দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারকে দেখা যেতে পারে। এর বাইরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, দণি জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চানও মনোনয়ন চান।

মজিবুর রহমান সারোয়ার আমাদের সময়কে বলেন, আমার ইচ্ছা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া। তার পরও দল চাইলে তো না করা সম্ভব নয়। দল যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে তিনি কথা বলেই মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও মেয়রপ্রার্থী পরিবর্তন করতে চায় বিএনপি। গাজীপুরের বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের বিরুদ্ধেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি নির্বাচন করার মতো সুস্থ ননÑ যদিও তিনি বিএনপির মনোনয়নে এবার মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী। গাজীপুরে পরিবর্তন হলে সে ক্ষেত্রে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে সাবেক সাংসদ হাসান উদ্দিন সরকার, সালাউদ্দিন সরকার অথবা সোহরাব উদ্দিনকে। তারা দলের কাছে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীই মনোনয়ন পাবেন। এ ব্যাপারে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আমি প্রস্তুত। ভোট হলে বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

এর বাইরেও প্রচার চালাচ্ছেন সিলেট বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।

কোনো সমস্যা না থাকলে রাজশাহী সিটিতে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলই আগামী নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হচ্ছেন। এমনটা আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন সাবেক মেয়র বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, বুলবুলই আমাদের রাজশাহী সিটিতে একক প্রার্থী। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি হওয়ায় জেলার সভাপতি থেকে বাদ পড়েছেন নাদিম মোস্তফা আর মহানগর সভাপতি থেকে বাদ পড়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। এ নিয়ে রাজশাহী বিএনপিতে ভেতরে ভেতরে কোন্দল রয়েছে। এর নিরসন না হলে নির্বাচনে বুলবুল একক প্রার্থী হলেও তার পক্ষে নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন হবে।

আগামী নির্বাচনে খুলনা সিটিতে বিএনপির শক্ত মেয়রপ্রার্থী বর্তমান মেয়র মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। তাদের উভয়ের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির এক নেতা জানান, মনা নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আর সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় মনি। এ অবস্থায় তাদের দুজনের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া বড়োই জটিল।

এদিকে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা আমাদের সময়কে জানান, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে তারাও স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী দেবে। বিগত নির্বাচনে এসব সিটিতে তাদের কোনো মেয়রপ্রার্থী না থাকায় বিএনপি জামায়াতকে গুরুত্ব দেয়নি। বিশেষ করে কাউন্সিলর পদগুলোয় সম্ভাবনা থাকার পরও জামায়াতকে ছাড় দেওয়া হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে