কে এই আকায়েদ

স্ত্রী-শ্বশুর-শাশুড়ি পুলিশ হেফাজতে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাসস্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে ঢাকায় গতকাল দুপুরে তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিগাতলার মনেশ্বর রোডের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাদের মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই ছয় মাসের সন্তানকে নিয়ে জিগাতলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ৫ থেকে ৬ বছর আগে রাইফেলস কলেজে পড়া অবস্থায় বান্ধবীর বন্ধুর মাধ্যমে আকায়েদের সঙ্গে পরিচয় হয় জুঁইয়ের। জুঁই ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ব্যবসায় প্রশাসনের ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন। আকায়েদও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন জুঁইয়ের বাবার বাসার বাড়িওয়ালা রহিমা ইসলাম। ১৯৯৭ সাল থেকে জুঁইয়ের মা-বাবা সপরিবারে মনেশ্বর রোডের এই বাসায় বসবাস করছেন।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম জানান, জুঁই ও তার মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে আকায়েদের বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয় আকায়েদ ও জুঁইয়ের। বিয়ের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান আকায়েদ। বিয়েতে অতিথি আপ্যায়নের মতো কোনো আনুষ্ঠানিকতা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে। আর এ কারণে আকায়েদের সঙ্গে মনেশ্বর রোডের কারো তেমন একটা পরিচয় ও কথাবার্তা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয় কয়েকজন জানান, তারা যতদূর দেখেছেন, আকায়েদ খুবই নম্র-ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। খুব বেশি মিশতেন না কারো সঙ্গে। নিয়মিত ধর্মীয় আচার পালন করতেন।

জুঁইয়ের বাবার নাম মোহাম্মদ হায়দার ও মায়ের নাম মাহফুদা খাতুন। হায়দার বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের একটি দোকানে কর্মরত আছেন। আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামে। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে এসেছিলেন।

জুঁইয়ের বাবার বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আকায়েদের আচরণ ভালো ছিল। তিনি আরও বলেন, মাঝে মধ্যে জুঁই আপার কাছে তার এক বান্ধবী আসতেন। তিনি বোরকা পরে আসতেন।

চট্টগ্রামের আকায়েদ সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি একটি আবাসন কোম্পানিতে বিদ্যুৎমিস্ত্রির কাজ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত সোমবার নিউইয়ার্কের ম্যানহাটনে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর আকায়েদকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করে নিউইয়র্ক পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আকায়েদ তার দেহের সঙ্গে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে মনে করছেন নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তারা।

কে এই আকায়েদ

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি জানান, আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি সন্দ্বীপের মুসাপুর ইউনিয়নে। গতকাল মঙ্গলবার মুসাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম জানান, আকায়েদের বাড়ি মুসাপুর গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডে। তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আকায়েদ দ্বিতীয়। তবে তারা ছোটবেলা থেকেই ঢাকার হাজারীবাগে থাকতেন। আকায়েদের গ্রামের বাড়ি বোতান তালুকদারের বাড়ি নামে পরিচিত। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকলেও এলাকায় তিনি খুব পরিচিত নন। তার বেড়ে ওঠা ঢাকার হাজারীবাগে। সেখান থেকে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তারা।

আকায়েদের চাচি নূরজাহান আমাদের সময়কে বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ ৭ বছর আগে সন্দ্বীপ থেকে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে যায়। সেখান থেকে তার বড় ভাই আহসান উল্লাহকে নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে মামা ছগির আমেরিকায় নিয়ে যান। পরে আহসান উল্লাহ তার পরিবারকে আমেরিকায় নিয়ে যায়। আকায়েদ, তার বড় ভাই আহসান উল্লাহ ও বোন সোহেল সন্দ্বীপে জন্নগ্রহণ করেন। আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেন ভাই আরমান উল্লাহ ও বোন আইফা। আকায়েদ আগে ঢাকায় পড়াশোনা করতেন। তখন তিনি তার পরিবারের সঙ্গে জিগাতলায় থাকতেন। ছোটবেলা থেকে আকায়েদ উল্লাহ খুব সাদাসিধে ছিলেন। তাই গ্রামে তার কোনো বন্ধু ছিল না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে