উচ্চারণগুলি শোকের

  শান্তা মারিয়া

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের গানে, কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে, নাটকে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কবি থেকে শুরু করে নবীনতম কবি-লেখক পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ, ২৫ মার্চের গণহত্যা, নারী নির্যাতন, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব, সাধারণ মানুষের বেদনা, সাহসিকতা, শরণার্থী শিবিরের কথা ইত্যাদি ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও নাটকে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা তার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ই লিখেছেন। উপন্যাসটি শেষ করার আগেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দোসর আলবদরের ঘাতকদের হাতে শহীদ হন তিনি। এ উপন্যাসে গণহত্যা, পাকিস্তানি সৈন্যদের ভয়ানক নির্মমতা ও নারী নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর বাস্তব চিত্র দেখা যায়।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’র মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ে তার দিনলিপি। সেখানে ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধের বিবরণ রয়েছে, রয়েছে অবরুদ্ধ ঢাকার পরিস্থিতি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রুমির কথা রয়েছে এ গ্রন্থের একটি বড় অংশজুড়ে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’তে মুক্তিযুদ্ধকে চিত্রিত করেছেন অন্তর্মুখী এক জীবনযোদ্ধার দৃষ্টিকোণ থেকে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শওকত ওসমানের ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’, ‘নেকড়ে অরণ্য’, ‘দুই সৈনিক’; সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘যুদ্ধ’, ‘কাকতাড়–য়া’; আহমদ ছফার ‘ওঙ্কার’, ‘অলাতচক্র’; শাহরিয়ার কবীরের ‘একাত্তরের যীশু’, ‘একাত্তরের পথের ধারে’; সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’; আমজাদ হোসেনের ‘উত্তরকাল’, ‘মা’; জহির রায়হানের ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার ডাইরি’; মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘কাচের সমুদ্র’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘ক্যাম্প’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’; হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘সৌরভ’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘আগুনের পরশমণি’; রিজিয়া রহমানের ‘রক্তের অক্ষরে’; ড. নীলিমা ইব্রাহিমের ‘বীরাঙ্গনা বলছি’; আনিসুল হকের ‘জননী সাহসিনী ১৯৭১’ উল্লেখযোগ্য। স্মৃতিকথার মধ্যে এমআর আখতার মুকুলের ‘আমি বিজয় দেখেছি’, নির্মলেন্দু গুণের ‘আত্মকথা ১৯৭১’, দ্বিজেন শর্মার ‘আমার একাত্তর ও অন্যান্য’, বাসন্তী গুহঠাকুরতার ‘একাত্তরের স্মৃতি’, সুফিয়া কামালের ‘একাত্তরের ডায়রি’, রাবেয়া খাতুনের ‘একাত্তরের নয় মাস’, মুনতাসীর মামুনের ‘সেইসব পাকিস্তানি’, সিমিন হোসেন রিমির ‘আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি তথ্য রয়েছে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র’র মধ্যে। ১৬ খ-ে বিস্তৃত এ মহাগ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।

শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ‘বন্দীশিবির থেকে’; নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’, ‘স্বাধীনতা উলঙ্গ কিশোর’; আবুল হাসানের ‘উচ্চারণগুলি শোকের’; রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’; হেলাল হাফিজের ‘একটি পতাকা পেলে’, হুমায়ূন আজাদের ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?’, রফিক আজাদের ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’, আসাদ চৌধুরীর ‘রিপোর্ট ১৯৭১’ ইত্যাদি কবিতা আমাদের নিয়ে যায় ১৯৭১ সালের রক্তঝরা দিনগুলোয়। আরও যারা লিখেছেন, তাদের মধ্যে আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, মুহম্মদ নুরুল হুদা, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, নাসির আহমেদ, আবদুস সামাদ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আবুল হাসনাত সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’ নামে সংকলন গ্রন্থ দুটিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বাংলাদেশের সব উল্লেখযোগ্য লেখকের লেখা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের কথা প্রকাশিত হয়েছে অনেক বিদেশি লেখকের কলমে।

অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’, জর্জ হ্যারিসনের গান ‘বাংলাদেশ’, জোয়ান বায়েজের ‘সং অব বাংলাদেশে’র কথা প্রথমেই মনে পড়ে। এ সারিতে আরও আছেন রবার্ট পেইন, অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, সিডনি শনবার্গ, লরেন্স লিফশুলজ প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে