‘আইএসে অনুপ্রাণিত’ আকায়েদ অভিযুক্ত

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৫৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ খবর দেয় বিবিসি।

খবরে বলা হয়, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সোমবার ম্যানহাটনের ব্যস্ত এক বাস টার্মিনালে হামলা চালান ২৭ বছর বয়সী আকায়েদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির ফল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশকে নিরাপদ রাখতে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আকায়েদ উল্লাহ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, ইউরোপে আইএসের হামলায় অনুপ্রাণিত হয়ে এ হামলা চালিয়েছেন।

তদন্তকাজে জড়িত এক কর্মকর্তা জানান, আকায়েদ আইএসের মতোই হামলা করতে চেয়েছেন এবং বড়দিনের পোস্টার দেখে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালকে হামলার স্থান হিসেবে নির্বাচন করেছেন। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার প্রতিবাদে এ কাজ করেছেন।

হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আকায়েদ নিজেও। গ্রেপ্তারের পর তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় আরও তিনজন আহত হন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছেÑ হামলায় মোট চারজন আহত হয়েছেন। কিন্তু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের মনে। আকায়েদের পাশের এক বাড়ির মালিক গণমাধ্যমটিকে বলেন, এখন আর কাউকেই কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না।

গত বছর বার্লিনে বড়দিনের এক উৎসবে ট্রাক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। আকায়েদ ওই হামলার দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে দাবি করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী পাঁচ ইঞ্চি একটি মেটাল পাইপ বোম ও ব্যাটারি করে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে যান। সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটে।

নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার ও’ নেইল বলেন, ‘আকায়েদ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। কিন্তু আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

বিবিসির খবরে বলা হয়, ২০১১ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান আকায়েদ। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করেন তিনি। মার্কিন অভিবাসন নীতিতে আত্মীয়স্বজনের বদৌলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসকে সেই সুযোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

কংগ্রেসের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘পরিবারভুক্তদের অভিবাসী হওয়ার সুযোগ নিয়েই এ সন্দেহভাজন জঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সক্ষম হয়েছে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমেরিকার অবশ্যই অভিবাসন নীতিকে সুরক্ষিত করা উচিত। এ নীতির কারণেই খুবই ভয়াবহ ব্যক্তিরা নির্বিচারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে সক্ষম হয়।’

চলতি বছর ৬ মার্চ সাত মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর স্থগিত হয়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞা সংশোধন করে ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ বিষয়ে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জারি করা নতুন নিষেধাজ্ঞায় আগের তালিকায় থাকা ইরাককে বাদ দেওয়া হয়। তবে অপর ছয় দেশের নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। সম্প্রতি মার্কিন আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে