আইজিপি পদে আসছে নতুন মুখ

  শাহজাহান আকন্দ শুভ

০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের বর্তমান আইজি একেএম শহীদুল হকের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি এই পদে যোগ দিয়েছিলেন। কে হবেন পরবর্তী আইজিপি তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্নে মহলে চলছে জোর আলোচনা। সরকার নতুন কাউকে শহীদুল হকের জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করবে নাকি তাকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে, তা নিয়েও নানা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের পরবর্তী আইজি হিসেবে নতুন মুখকেই বেছে নিতে চায় সরকার। ফলে শহীদুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারকেও একটি পক্ষ চুক্তিভিত্তিক আইজিপি হিসেবে নিয়োগের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নতুন আইজিপি হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম শহীদুল হককে বেছে নেয়। পরের দিন তিনি আইজিপি হিসেবে যোগ দেন।

পুলিশের পরবর্তী আইজি হিসেবে নিয়োগ পেতে আলোচনায় রয়েছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-১ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান এবং র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নাম। এ তালিকার বাইরে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার নামও আলোচনায় আছে।

এই চারজনের মধ্যে বর্তমান আইজিপির ব্যাচের হলেন ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বিসিএস ৮৪ ব্যাচের মেধাক্রমে এক নম্বর কর্মকর্তাও তিনি। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমানের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালে এবং বেনজীর আহমেদের ২০২২ সালে। মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি হিসেবে নিয়োগপ্রত্যাশী চার পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত বছরের জুলাই মাসে আইজিপি একেএম শহীদুল হককে বদলের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নতুন আইজিপির ব্যাপারে প্রস্তাব তৈরি করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীর নাম আইজিপি হিসেবে প্রস্তাব পাঠাতেও বলা হয়। এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর আগেই ফাঁস হয়ে যায়। এর পর একটি পক্ষ প্রস্তাবের বিরোধিতায় নামে। তখন এ নিয়ে জোর আলোচনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত শহীদুল হককে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। এ নিয়ে তখন নানা গল্পও চাউর হয় পুলিশে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে আইজিপি বদলের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদেও বড় রদবদল হবে। সে ক্ষেত্রে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান, সিআইডিপ্রধান, র্যাবের ডিজি, ডিএমপি কমিশনার ও নবগঠিত অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটে নতুন মুখ আসতে পারে। এ রদবদলের একাধিক ডিজাইন নিয়েও আলোচনা চলছে। এ ছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডিআইজি পদে রদবদল হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে