নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা চাই -ফখরুল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে আলোচনা করতে সংলাপ ডাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে কোনো বিধান নেই বলে মন্তব্য করেছে দলটি। সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বিকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তা হলে সেই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জনগণের শান্তি ও স্বস্তির জন্য সব বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ। আসুন সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই। বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তা হলে তার উচিত হবে এ নিয়ে সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। বিএনপি মনে করে একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। দীর্ঘকাল ধরে সব বিরোধী দল ও সুশীল সমাজ সব দলের অংশগ্রহণের জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বিএনপির একটি রূপরেখা যথাসময়ে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় বসেনিÑ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আবার সেই নির্বাচন ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাকে পদদলিত করা ছাড়া আর কিছু নয়। জাতি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিদ্যমান সংকট উত্তরণে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যা বলেছেন, তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। তার ভাষণ জাতিকে হতাশ, বিস্ময়-বিমূঢ় ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারও উন্নয়ন মেলা করছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, পাকিস্তান আমলের স্বৈরশাসক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যে ধরনের চমকের আশ্রয় নিয়েছিল, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে। এ দেশের জনগণ সবকিছু জানে ও বোঝে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার নিয়ে সরকারের দাবির সঙ্গে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিবিদের ভিন্নতা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। বেকারত্ব, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শ্লথগতি, মূল্যস্ফীতি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, আর্থিক খাতে ‘লুটপাট ও দুর্নীতি’ মেগা প্রকল্পে ব্যয়ভার বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি, আয়বৈষম্য, খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, দারিদ্র্য হার, বিনিয়োগ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব পরিসংখ্যান তুলে ধরেন, সে সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভাষণে তার শাসনামলে উন্নয়নের এক চোখ ধাঁধানো বয়ান পেশ করেছেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে