তাবিথকে নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে যা হলো

  নজরুল ইসলাম

১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সব প্রক্রিয়া শেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। তারপর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নাম ঘোষণা করা হয়।

সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন বোর্ডের সদস্যরা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড আধাঘণ্টা ধরে তাবিথকে নানা প্রশ্ন করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৩৯ বছর বয়সী তাবিথ আউয়ালও প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাবলিল ভঙ্গিতে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে দেশে ফেরত এসে পারিবারিক ব্যবসা ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাবিথ মেয়র নির্বাচিত হলে বাসযোগ্য আধুনিক ডিএনসিসি গড়ার পরিকল্পনার কথা মনোনয়ন বোর্ডের সামনে তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, ডিএনসিসির মেয়রপদে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন এবং সহপ্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদও বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম বিদেশে থাকায় দলীয় মনোনয়নপত্র আমলে নেয়নি বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। সাক্ষাৎকার দেওয়া মেয়রপ্রার্থীরা মনোনয়ন বোর্ডকে আশ্বস্ত করেছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে একযোগে কাজ করবেন তারা।

বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। উল্লিখিত নেতাদের সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উত্তরের মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেন। কিন্তু খালেদা জিয়া বোর্ড সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘ডিএনসিসি মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। আমি সিদ্ধান্ত দেব, আর বাইরে গিয়ে বলবেন ম্যাডাম মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন, তা হবে না।’ এর পর মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমি তাবিথ আউয়ালকে মেয়রপ্রার্থী করার পক্ষে। তাবিথকে সমর্থন কেন করেছেনÑ এই যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি। মওদুদের বক্তব্যকে সমর্থন জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তাবিথ আউয়ালকে ইঙ্গিত করে লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, তরুণরাই সব সময়ের জন্য ভালো। এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, স্বাক্ষাৎকার দেওয়া চারজনের মধ্যে তাবিথ আউয়ালই বেস্ট। আব্বাসকে সমর্থন দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তাবিথ আউয়ালকে সমর্থন দেন। এরপর একে একে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তাবিথ আউয়ালকে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেন। মনোনয়ন বোর্ডের উপস্থিত সদস্যদের মতামত শেষে চেয়ারপারসন ও মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান খালেদা জিয়া বলেন, আজকের বোর্ডের সবার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। পরে রাতেই মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা তাবিথকে মনে করেছি যে, হি ইজ দ্য বেস্ট ক্যান্ডিডেট, সবচেয়ে ভালো ক্যান্ডিডেট; ফিটেস্ট ক্যান্ডিডেট। গতবার প্রচুর ভোট পেয়েছিল। সে ইয়াং, সে বাইরে ছিল, লেখাপড়া করেছে, প্রচুর অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের স্থায়ী কমিটি হচ্ছে পার্লামেন্টারি বোর্ড। সেখানে আলোচনা হয়েছে। অন্যরাও যোগ্য প্রার্থী ছিল। তার মধ্যে তাবিথ আউয়ালকে মনে হয়েছে এই নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ক্যান্ডিডেট। সে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী।

মনোনয়নপ্রত্যাশী শাকিল ওয়াহেদ কেন প্রার্থী হতে চান? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাকে বিএনপির কয়েক নেতা সমর্থন দিয়েছেন। তাই প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে