নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে : প্রধানমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণি আছে তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা জরুরি অবস্থা এলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটি জিনিসই থাকেÑ যদি অস্বাভাবিক-অসাংবিধানিক, মার্শাল ল বা জরুরি অবস্থা কখন আসবে; তাদের গুরুত্ব বাড়বে। এই শ্রেণির মানুষ আঁকাবাঁকা বা অবৈধপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। জনগণের ভোট পাবে না বলে তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আর ২০১৩ সালেও বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নির্বাচন বানচাল করে আঁকাবাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই শ্রেণির মানুষ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।

একই প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমি সাহস নিয়ে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সে জন্যই আমাকে হত্যার জন্য বুলেট-গুলি, গ্রেনেড হামলা, বড় বড় বোমা পুঁতে রাখা হয়। তবু আমি মরি না। আল্লাহ আমাকে কীভাবে যেন বাঁচিয়ে রাখেন। হয়তো দেশের মানুষের জন্য কোনো ভালো করাবেন। আর মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। কী পেলাম আর কী পেলাম না, সেই হিসাব আমি মেলাই না। বরং দেশের জন্য কী করতে পারলাম, দেশের মানুষকে কতটুকু শান্তি, স্বস্তি ও উন্নতি দিতে পারলামÑ সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা।

ফখরুল ইমামের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে নিয়ে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন হাজার বিশ্লেষণ দিলেও আমার মাথা কখনো খারাপ হবে না। আমি বেতালা হব না, এটি আমি বলে দিতে পারি। ওগুলো আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আমার চিন্তা একটিইÑ দেশের মানুষ ভালো থাকুক। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর কেন দেশের উন্নয়ন হয়নি? একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়। আমি উচ্চবিত্তদের কথা চিন্তা করি না, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং তারা দুই বেলা পেট ভরে খেয়ে স্বস্তি, শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলছে কিনা, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা এবং আমার প্রধান লক্ষ্য।

তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তকরণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক এলাকায় কোথায় কত স্কুল হবে, কয়টা স্কুল প্রয়োজন, সেগুলো কিন্তু একটা হিসাব করে সেভাবে তৈরি করার নীতিমালা আমরা করে দিয়েছি। সেভাবেই করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে একজন এলো, মাত্র দেড়শ ছাত্রছাত্রী। সেটি সরকারিকরণ করার প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। আমার আত্মীয়। আমি বলে দিয়েছিÑ যেখানে মাত্র দেড়শ ছাত্রছাত্রী, এটিকে কী করে সরকারিকরণ করব। আত্মীয় হলেই বা আমি ওখানে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম বলেইÑ করতে পারব না। যৌক্তিকতা তো থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আত্মীয় এসেছিলেন, তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ এ সময় পীরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাংসদ ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার এলাকার মাননীয় স্পিকার। এ সময় স্পিকার পাল্টা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার শ্বশুরবাড়ি।

সরকারি দলের সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ডুয়েলগেজ রেললাইনসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম এলাকার জনগণের উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এ জন্য যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইনের সংস্থানসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয় এবং ২০১৬ সালের ২৯ জুন জাইকার সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের জন্য (পরামর্শক নিয়োগ) ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের জন্য গত বছরের ২ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৫ মার্চ থেকে কাজ শুরু করে। বর্তমানে জিওটেকনিক্যাল ও টপোগ্রাফিক সার্ভেসহ ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।

মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত যতœশীল। কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সাধারণ স্কুলেই শিক্ষা লাভের সুযোগ পায় সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কারণ সরকার প্রতিবন্ধীদের মূলধারার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে