সরকার-ইসি যৌথ প্রযোজনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচন বানচালের পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশাÑ এটি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনা বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। গতকাল দুপুর ১টার দিকে দলটির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

ডিএনসিসি মেয়র পদে উপনির্বাচন ও সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে বুধবার সকালে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা। কারণ তারা সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এটা আইন অনুযায়ী হয় না। সরকার যেহেতু নির্বাচনের ফল আগেই জানত, অর্থাৎ তারা হেরে যাবে, তাই তারা সুযোগ নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের কারণেই সংক্ষুব্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা বারবার বলে আসছি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সিইসি আওয়ামী লীগের মাস্টারপ্ল্যানেরই অংশ। ডিএনসিসিসহ ঢাকা সিটিতে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তা হলে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি হবে এটা সরকারি দল নিশ্চিত জানে। গণমাধ্যমেও এ রকম খবর বেশ কয়েকদিন ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এ বছর হওয়ার কথা। তাই ঢাকা সিটিতে বিপুল ভোটে পরাজিত হলে আওয়ামী লীগের জাতকুল কিছুই থাকবে না। তাই সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন আইনি ত্রুটি রেখে এ তফসিল ঘোষণা করেছে। এটা সরকারেরই নীলনকশার একটা অংশ।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৫ (৩) উপধারা অনুযায়ী মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে, করপোরেশন, এই আইনের অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। এ আইন মতে, উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড মিলে কাউন্সিলর শতকরা ৭৫ ভাগ হয় না। কারণ নতুন ১৮টিতে তো নির্বাচনই হয়নি। তা ছাড়া সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হবেন তারা কত দিনের জন্য নির্বাচিত হবেন। তারা কী পাঁচ বছরের জন্য হবেন, না আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। তা নির্ধারণ করেননি কমিশন। এসব ত্রুটির কারণেই রিটের সুযোগ পেয়েছেন সংক্ষুব্ধরা। রিটকারীদের দুজনের একজন আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ত্রুটি রেখে তফসিল ঘোষাণা দিলে যে কোনো দলের সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রিট করতেই পারেন। সরকার জানে, আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবেÑ এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে মাস্টার প্ল্যান করতে বলেছেন। সরকারের প্ল্যান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনও ত্রুটি রেখেছে। এটা হচ্ছে সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়নের প্ল্যান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, মুনীর হোসেন, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে