চলতি বছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না : বিশ্বব্যাংক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে সরকার দাবি করলেও সেটি অর্জিত হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

গতকাল সংস্থাটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা (গ্লোবাল ইকোনমিক প্রস্পেক্টাস) ২০১৭ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। এ ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগ এবং বিনিয়োগ কমবে। ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমবে। এর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়াবে এ দেশের অর্থনীতি; সে সময়ে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা বেড়ে ৭ শতাংশে দাঁড়াবে।

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, আগামীতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমবে। অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমার কারণে আয়-ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করবে। রাজস্ব খাতে ভারসাম্যহীনতা এবং আর্থিক ও করপোরেট ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ। সরকারি খাতে বেতনভাতা বৃদ্ধির কারণেও ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণও ঝুঁঁকি বাড়াবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছর দণি এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনের েেত্র বাংলাদেশের অবস্থান হবে তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে থাকবে ভুটান; ২০১৭ সালে (ক্যালেন্ডার ইয়ার) দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকবে ভারত; দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ।

চলতি অর্থবছর দণি এশিয়ার আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হবে। আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে ভারত। এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিদায়ী বছরের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

 

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০১৬ সালে বিশ্বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে ভূমিকা রাখবে উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া) কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে