রাষ্ট্রপতিকে চার প্রস্তাব

ইসি গঠনে আইন ও ই-ভোটিং চায় আওয়ামী লীগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে এখনই একটি আইন অথবা অধ্যাদেশ জারি এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তনসহ রাষ্ট্রপতিকে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে মতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নতুন ইসি নিয়োগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে চলমান সংলাপে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এসব প্রস্তাব দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি গতকাল বুধবার বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সময় স্বল্পতায় আগামী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের েেত্র তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। কাদের বলেন, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সে উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপে নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সব বিধি-বিধানের সঙ্গে জনমানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন করতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ই-ভোটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এর আগে ইভিএমের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ই-ভোটিং নিয়েছে ইসি। ওই প্রক্রিয়ার ফল ইতিবাচক দেখে আগামী দিনের নির্বাচনে আমরা ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাব করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধান ও বিরাজমান সব আইনকানুনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতি গৃহীত যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি আমাদের দলের পরিপূর্ণ সমর্থন থাকবে।

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে কাদের আরও বলেন, সংবিধানের ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদান করবেন। অপর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করবেন।

সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে। এ বিষয়ে প্রণীত আইনের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেবেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে চার প্রস্তাব ছাড়াও অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিপক্ষে আচরণ, ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবল প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিসাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ-নির্লোভ তৎপরতা, নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারদের অবাধে ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত, নির্বাচনের আগে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য অত্যাবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবল আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।

‘গণতন্ত্র ও নির্বাচন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক ক্ষমতাসীন দলের ১০ পৃষ্ঠার লিখিত প্রস্তাবের বেশিরভাগজুড়েই রয়েছে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের পর থেকে শুরু করে ২০০৯ পর্যন্ত দেশের প্রায় সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশের চিত্র তুলে ধরেছে আওয়ামী লীগ। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি নির্বাচনে প্রত্যাশী সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহেরও গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল আচরণ খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত অনুসরণযোগ্য।’

গতকাল বিকাল ৪টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। বৈঠক চলে বিকাল ৪টা ৫ মিনিট থেকে বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। বৈঠক শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংলাপ গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মতাসীন দলটির সঙ্গে সংলাপ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই পর্যন্ত ২৩টি দলের সঙ্গে আলোচনা করলেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪০টি।

 

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বিদায় নিচ্ছে বলে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের এই উদ্যোগ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

 

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে