নার্স নিয়োগ নিয়ে উত্তপ্ত বিএসএমএমইউ

ঘুষি মেরেছেন ভিসি : প্রো-ভিসি, ডাহা মিথ্যা কথা: ভিসি

  আলী আসিফ শাওন

২০ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ১৪:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

কামরুল হাসান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য কামরুল আহসান খানের বিরুদ্ধে অকথ্য গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এএসএম জাকারিয়া স্বপন। তিনি বলেন, ভিসি আমাকে দেয়ালের সঙ্গে ঠেসে ধরে বুকের ওপর একাধিক ঘুষি মেরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিএসএমএমইউয়ে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। অবশ্য উপ-উপাচার্যের এ অভিযোগ ডাহা মিথ্যা বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসএমএমইউতে সিনিয়র নার্স নিয়োগ নিয়ে কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মূলত এই প্রতিবেদনগুলোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আহসান খানের সঙ্গে উপ-উপাচার্য জাকারিয়া স্বপনের তিক্ততার সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, নার্স নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় টাঙ্গাইলের ৭৬ পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক নম্বরের তথ্য তুলে ধরে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আহসান খানের বাড়ি টাঙ্গাইল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনগুলোর কারণে উপ-উপাচার্য জাকারিয়া স্বপনের প্রতি ক্ষিপ্ত হন উপাচার্য কামরুল। তার ধারণা, এ প্রতিবেদনগুলো প্রকাশে জাকারিয়া স্বপনের মদদ রয়েছে।

মারধরের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া স্বপন আমাদের সময়কে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কোর কমিটির ৫ জনের বৈঠক হবে বলে উপাচার্য আমাকে জানান। ওই কমিটির সদস্য উপাচার্য, আমরা তিন উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ। বৈঠকটি প্রো-ভিসি (প্রশাসন) শারফুদ্দিন আহমেদের কক্ষে হবে বলেও তিনি আমাদের জানান। এরপর নির্ধারিত সময়ে বৈঠক না হওয়ায় খবর নিয়ে জানতে পারলাম, উপাচার্য তার কনফারেন্স রুমে বসবেন বলে জানিয়েছেন। কনফারেন্স রুমে গিয়ে দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলালসহ প্রায় ১০-১২ জন পরিচালক সেখানে উপস্থিত। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, এখানেই হবে। তখন আমি বলি, এখানে তো আমাদের ৫ জনের বাইরে অন্যরাও রয়েছেন। সবাইকে নিয়ে বৈঠক করতে হলে আপনি বাকি পরিচালকদের ডাকেন অথবা সিন্ডিকেটের বৈঠক ডাকেন। আমি এ কথা বলামাত্র অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে চেয়ার থেকে আমার দিকে তেড়ে আসেন প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলাল। তখন অন্য দুই উপ-উপাচার্য তাকে নিবৃত্ত করেন। এরপর আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করলে ভিসি উঠে এসে দেয়ালের সঙ্গে আমাকে ঠেসে ধরে বুকের ওপর ঘুষি মারতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে চলছিল অকথ্য গালিগালাজ।

ঘটনার কারণ জানতে চাইলে জাকারিয়া স্বপন বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আহসান খান আমাদের সময়কে বলেন, কোর কমিটির কোনো বৈঠকের কথা ছিল না। সাধারণত আমরা যখন বৈঠকে বসি তখন প্রক্টরও আমাদের সঙ্গে থাকেন। কিন্তু গতকাল বৈঠকে বসার আগে প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলালকে উঠে যেতে বলেন জাকারিয়া স্বপন। এক পর্যায়ে দুলাল ও স্বপনের মধ্যে বাকবিত-া হয়। আমরা সবাই তাদের দুজনকে নিবৃত্ত করি। উপ-উপাচার্য স্বপনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এটা ডাহা মিথ্যা কথা। স্বপন আমার ছোট ভাইয়ের মতো। মারার তো প্রশ্নই উঠে না, আমি ওর গায়ে হাত বুলিয়ে শান্ত করেছি। ওকে চা খাইয়েছি। ও যদি কোনো অভিযোগ করে থাকে তাহলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণেœর জন্য করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close
close