৩ প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে চীন

  তাওহীদুল ইসলাম

২৪ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন তিন প্রকল্প নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জিটুজি পদ্ধতির এসব প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে যাচ্ছে দেশটি। দ্রুত ঋণচুক্তির প্রক্রিয়া না করলে অর্থায়ন না করার কথা এরই মধ্যে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।

অনিশ্চয়তায় পড়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে- সেতু বিভাগের আওতাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন রাজশাহী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৫ মিলিয়ন ইলেকট্রো মেকানিক্যাল এনার্জি মিটার’ সংক্রান্ত।

সম্প্রতি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি)। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অবগত করেছে ইআরডি।

জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় ২ বছর সময়সীমার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে চীনের পক্ষ থেকে। চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য মনোনয়নের ২ বছরের মধ্যে ঋণচুক্তির প্রক্রিয়ার বিধান রয়েছে চীন সরকারের। এ সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু না হলে তাতে এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের এ ৩ প্রকল্পের ঋণ প্রক্রিয়া এ কারণে বাতিল হওয়ার পথে। কারণ শিগগির এসব প্রকল্পের সময়সীমা ফুরিয়ে যাচ্ছে। চিঠিতে এ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই, রাজশাহী সারফেস ওয়াটার প্ল্যান্ট প্রকল্প ওই বছরের মার্চ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৫ মিলিয়ন ইলেকট্রনিক মিটার প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরুর সময় ধরা হয়েছে একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে। সে হিসাবে এসব প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে। তাই চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়ন চাইলে নতুন করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এরপর দেশটির এক্সিম ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

ইআরডি সচিব শফিকুল আজম আমাদের সময়কে বলেন, অর্থায়ন থেকে চীন সরে যাচ্ছে কিনা, তা এ মুহূর্তে বলা কঠিন। এ সংক্রান্ত ফাইল দেখে হয়তো নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এটা ঠিক, ২-৩ বছর মেয়াদের নিয়ম থাকতেই পারে। নির্ধারিত মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে বা শেষ হওয়ার পর্যায়ে গেলে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করা লাগতে পারে।

এদিকে এ নিয়ে সেতু বিভাগে যোগাযোগ করে জানা যায়, জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে এখনো ঋণচুক্তির দিকে না যাওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৬৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বিপুল অর্থের এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সমীক্ষা ছাড়া নির্ণয় করা কঠিন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছেÑ ১০ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে আগে সমীক্ষা করতে হবে। তাই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রকল্পের ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এর ওপর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য নথি শিগগির উপস্থাপন করা হতে পারে। এসব বাস্তব কারণেই ঋণচুক্তির দিকে এতদিন যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য দুই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, আশুলিয়া উড়ালসড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি নানা কারণে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়ার চন্দ্রা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি)। এজন্য সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে সাব কন্ট্রাক্ট দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এসব করতে গিয়ে হংকংয়ে অর্থ লেনদেনসহ নানা খবর জন্ম দেয়। এরপর থেমে যায় অগ্রগতি। প্রথমে সমীক্ষা ছাড়াই অগ্রসর হয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করায় আপাতত সমীক্ষার পরই নির্মাণ ও ঋণচুক্তির দিকে যেতে চায় সেতু বিভাগ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে