প্রধানমন্ত্রীর ধমকে একমাসেই অগ্রগতি ৬০ শতাংশ

  হামিদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১০:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেড় বছরে কাজের অগ্রগতি ছিল ৫ শতাংশ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ধমক খাওয়ার পর গত একমাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ। নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে নির্মাণাধীন তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজের দৃশ্য এটি। গত ১২ মার্চ চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী সেতু তিনটি কাজ না করে পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মূলত এর পরই নির্মাণ কাজে গতি সঞ্চার হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০ জুনের মধ্যে এখানে ঢালাই দিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। তিন সেতুর নির্মাণ কাজের ৬০ শতাংশই শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, সেতুর ক্ষেত্রে বেজমেন্টের কাজটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ সময় লাগে। সেটা তিন সেতুর ক্ষেত্রেই শেষ হয়েছে।

সে সময় তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সে অনুযায়ী বর্তমানে যেভাবে কাজের অগ্রগতি হচ্ছে, তাতে জুনের মধ্যে গাড়ি চলতে না পারলেও সেতুর ঢালাইয়ের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা। এ তিনটি সেতুর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প হিসেবে সেতু তিনটির নির্মাণ কাজ হলেও এর তত্ত্বাবধায়ক মূলত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। অভিযোগ রয়েছে, দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ রশি টানাটানির কারণেই মূলত সেতু তিনটির নির্মাণ কাজে অগ্রগতি হচ্ছিল না। এ কারণে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়েন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরজমিনে দেখা যায়, তিনটি সেতুরই ভিত্তির (বেজমেন্ট) কাজ শেষ হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ নম্বর ঘাটের কাছে অবস্থিত ৯ নম্বর সেতুটির একটি পিসি গার্ডার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আরেকটিতে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এই সেতুতে নয়টি পিসি গার্ডারের ওপর সেতুটির ঢালাইয়ের কাজ হবে। ফলে এ সেতুর কাজ সময়সাপেক্ষ বলে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী ও পরামর্শকরা জানান। অন্য সেতু দুটির মধ্যে ৭ নম্বর সেতুর দুপাশের আরসি গার্ডার তৈরির জন্য রড বাঁধার কাজ চলছে। আর ৮ নম্বর সেতুর আরসি গার্ডারের রড বাঁধার কাজ শেষ হয়েছে। তিন সেতুতে প্রায় দেড়শত লোক কাজে ব্যস্ত।

গত ১২ মার্চ ওয়াসার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আজ আসার সময় রাস্তার দুরবস্থা দেখে খুবই দুঃখ পেলাম। আমি জানি না রাস্তার এ দুরবস্থা কেন। ব্রিজের জন্য বড় বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। দুই বছর আগে একবার এসেও এই অবস্থা দেখেছিলাম। তখন আমার মিলিটারি সেক্রেটারি জয়নালকে বলেছিলাম, তুমি তো চট্টগ্রামের মানুষ। অথচ চট্টগ্রামের রাস্তার এই দুরবস্থা। তুমি আমার এখান থেকে সেগুলো একটু দেখ না কেন? তখন তিনি খবরও নিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, ব্রিজগুলো হয়ে যাবে। ২০১৫ সালে আমি তাকে চট্টগ্রামে পাঠাই। এখন ২০১৭। এখন পর্যন্ত ব্রিজগুলো হয়নি। আমি মেয়র সাহেবকে জিজ্ঞাস করলাম কেন ব্রিজগুলো হয়নি। এগুলো তো এলজিইডি ও সিটি করপোরেশন করার কথা। এই কাজে দেরি কেন হয়েছে, অবশ্যই তা খুঁজে বের করতে হবে। কার গাফিলতির কারণে ব্রিজগুলোর কাজ হয়নি আমি তা জানতে চাই। আমি আগামীবার এসে রাস্তার দুরবস্থা যেন আর না দেখি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনলাইন দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পাওয়ার পর দেখা যায়, তিন ঠিকাদারের কারোরই এ ধরনের কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এরপরও ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী একবছরেও কাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সেতু তিনটি নির্মাণের জন্য এক বছর সময় বাড়ানো হয়। সেই হিসেবে চলতি বছরের ১২ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে