সর্বনিম্ন ভ্যাটহার ১০ না ১২?

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আগামী সপ্তাহে

  রুমানা রাখি

১৯ মে ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৭, ১১:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের বাকি মাত্র ১২ দিন। বাজেটের সব বিষয় চূড়ান্ত হলেও আটকে আছে ভ্যাটহার নির্ধারণ। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন আইনে ভ্যাটের হার শেষ পর্যন্ত কত হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী সপ্তাহে। একই সাথে নতুন আইনে অভিন্ন ১৫ শতাংশ হারও কিছু ক্ষেত্রে বহাল থাকার কথা রয়েছে। তবে যেসব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে ওই সব পণ্যে ১০ বা ১২ শতাংশ হার নির্ধারণ করার চিন্তা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাটহার চূড়ান্ত করতেই দেরি হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বৈঠকে সর্বনিম্ন ভ্যাটহার নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজস্ব আদায়সহ সামগ্রিক পরিস্থিতি। গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় নতুন আইনের আওতায় দুটি ভ্যাটহার নিয়েও আলোচনা হয়। তাই এ বিষয়ে আবার বৈঠক হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সৌদি সফর শেষে আগামী ২৩ মে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ওইদিন বা পরদিন ২৪ মে এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকবার বসে ভ্যাটহারসহ বাজেটের সবকিছুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র আরও জানায়, সৈৗদি সফর শেষে অর্থমন্ত্রী আগামী ২০ মে দেশে ফিরবেন। তারপর ভ্যাট নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে আগামী বৈঠকে ভ্যাটের হার চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ বৈঠকে এনবিআর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যাটের হার কমানো হলে এ খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় কমবে তা জানানো হয়। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়কর ও শুল্ক থেকে কীভাবে রাজস্ব বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে এনবিআরকে বিশ্লেষণ করতে নির্দেশ দেন। একই সাথে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের যাতে ভ্যাট হারের কারণে জীবনযাত্রার মানের ওপর অধিক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, রোববারের বৈঠকে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে এনবিআরের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ১৯৯১ সাল থেকেই দেশের বিভিন্নখাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ আছে। তামাক, মোবাইল ফোন কোম্পানি, জ্বালানি তেলসহ বৃহৎ খাতগুলো ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছে। এনবিআর ভ্যাট বাবদ যে রাজস্ব পায়, তার বড় অংশই আসে এসব খাত থেকে। ভ্যাটহার ১০ বা ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হলে বাজেটে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রাজস্ব আয় বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছে, তা মূলত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধরেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভায় ভ্যাটের বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী কিছু ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সরাসরি কোনো নির্দেশনা দেননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করতে বলেছেন।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায়ের এখন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাটহার ধরেই হিসাব করা হচ্ছে। ভ্যাটহার কমানো হলে তা দ্রুত সমন্বয় করার প্রস্তুতিও আছে। তবে বাজেটের বেশি দিন বাকি না থাকার কারণে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় শুল্ক, কর ও ভ্যাট বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভ্যাটের হার কী হবে, তা অর্থমন্ত্রী বলতে পারবেন। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি, তাতে ব্যবসায়ীরা খুশি হবেন।

আর প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ও ভ্যাটহার চূড়ান্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমেদ বলেন, আগামী বৈঠকে আমরা (ব্যবসায়ীরা) আশা করছি প্রধানমন্ত্রী সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, যাতে ব্যবসায়ীরা কিংবা ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

ভ্যাটের দর্শন একক হার হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানে একাধিক ভ্যাটহার বিদ্যমান।

বর্তমানে দেশি ব্র্যান্ডের পোশাক, রেস্তোরাঁ, বিদ্যুৎ বিলসহ ১৫ ধরনের সেবার ওপর দেড় থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হয়। আবার দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপণ্য সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানি করলে আমদানি পর্যায়ে কোনো ভ্যাট দিতে হয় না। এমএস রডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রীর ওপর ট্যারিফ মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট আরোপ হয়। নতুন আইনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলে এসব পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে